দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘গ্রীন বিল্ডিং’

শেখ তৌফিকুর রহমান

  • প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ৩:২৭ অপরাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরাট ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এর অন্যতম কারণ পরিবেশ দূষণ। প্রতিনিয়ত গ্রীন হাউজ গ্যাস নিঃসরণে দূষিত হচ্ছে বিশ্ব। আর নিঃসরিত এই গ্যাসের একটি একটি বড় অংশের সৃষ্টি সাধারণ বিল্ডিং থেকে। ফলে পরিবেশবিদরা পরিবেশ বান্ধব গ্রীন বিল্ডিং নির্মাণের পরামর্শ দিচ্ছেন। এরই মধ্যে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পরিবেশবান্ধব গ্রীন বিল্ডিং নির্মাণের মনোভাব তৈরি হয়েছে। উন্নত দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রীন বিল্ডিং।

green

প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি না করে তৈরি করা হয় পরিবেশ বান্ধব গ্রীন বিল্ডিং। অবকাঠমো তৈরির জমি নির্বাচন থেকে শুরু হয় এই প্রজেক্টের প্রাথমিক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ অনুর্বর বা অনাবাদি জমিতে ভবন নির্মাণ গ্রীন বিল্ডিংয়ের অন্যতম শর্ত। ভবন নির্মাণ প্রণালীর উপকরণগুলোও হতে হবে পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব। এছাড়া গ্রীন বিল্ডিংয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি এবং শক্তির অপচয় রোধ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ শক্তি কম ব্যবহার করে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়। ফলে বিদ্যুৎ খরচ ও কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। গ্রীন বিল্ডিংয়ে বৃষ্টির পানি ব্যবহার এবং অপচয় কমিয়ে আনার বিষয়ও নিশ্চিত করা হয়। বিল্ডিয়ে ব্যবহারকৃত পানি পুনঃব্যবহার করা হয়। যেমন: গোসল বা রান্নার কাজে ব্যবহার করা পানি পরবর্তীতে টয়লেটের ফ্লাস বা অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বব্যাপী গ্রীন বিল্ডিংয়ের স্ট্যান্ডার্ড মান নির্ধারণে রয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) লিডারশিপ ইন এনার্জি এন্ড এনভাইরনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইডি) বা ‘লিড’-এর সার্টিফিকেশন সবচেয়ে জনপ্রিয় ও মানসম্মত। তাদের বিভিন্ন চেকলিস্ট থাকে, যার প্রতিটির জন্য বরাদ্দ থাকে নির্দিষ্ট পয়েন্ট। মূলত ১০০ পয়েন্টের উপর ভিত্তি করে ৪ ক্যাটাগরিতে সনদ সরবরাহ করা হয়। ৪০ থেকে ৪৯ পয়েন্টে বেসিক, ৫০ থেকে ৫৯ পয়েন্টে সিলভার, ৬০ থেকে ৭৯ পয়েন্টে গোল্ড এবং ৮০ থেকে এর উপরের পয়েন্টে প্লাটিনাম সার্টিফিকেট। সর্বনিম্ন ১০০০ বর্গফুটের যে কোনো ভবন নির্মাণে লিড সার্টফিকেশনের জন্য আবেদন করা যায়। গ্রীন বিল্ডিংয়ের কার্যক্রম শুধু নতুন স্থাপনা নয়, পুরনো স্থাপনায় সম্ভব। তবে প্রক্রিয়াটা তুলনামূলকভাবে জটিল।

গ্রীন বিল্ডিং বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পরিবেশ বান্ধব গ্রীন ব্লিল্ডিং তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। বিভিন্ন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান গ্রীন বিল্ডিং বিনির্মাণে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৪৫টি ভবন লিড সনদ অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৪২ টি প্লাটিনাম, ৮৭টি গোল্ড, ১৪টি সিলভার এবং ২টি সাধারণ সার্টিফিকেট রয়েছে। এছাড়া ৫৩৯ টি ভবনের লিড সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট শক্তির ৪০ শতাংশই বিল্ডিংয়ে খরচ হয়। যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড স্টেট এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সি ইউএসইপিএ ‘র তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর মোট গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ৩ ভাগের ১ ভাগ বিল্ডিং থেকে নিঃসৃত হয়। সুতরাং বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমাতে গ্রীন বিল্ডিং কার্যকরী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে গ্রীন বিল্ডিং প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থিসিক্সটি টোটাল সলিউশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি যারা ইতিমধ্যে ২০২টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অনন্ত আহমেদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ধীরে ধীরে মানুষজন গ্রীন বিল্ডিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। গ্রীন বিল্ডিং নির্মাণের ফলে সিগনিফিকেন্ট এমান্টের এনার্জি সেইফ হয়, পানির অপচয় কম হয়। সে কারণে দেশে গ্রীন বিল্ডিং তৈরির প্রবণতা বাড়ছে।

কৃতজ্ঞতা : বাংলাদেশ জার্নাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...