রহস্যে ঘেরা ‘কঙ্কাল হ্রদ’

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২১, ১:০৫ অপরাহ্ণ

ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের হিমালয় অঞ্চলের ত্রিশূল পর্বতমালার অবস্থান। পর্বতমালার শৃঙ্গে একটি হ্রদে রয়েছে শত শত কঙ্কাল। এটির আসল নাম ‘রূপকুণ্ড লেক’। কিন্তু রহস্যজনক মানবকঙ্কাল পাওয়ায় সেটি ‘কঙ্কাল হ্রদ’ নামেই বেশি পরিচিত। বিবিসি।

রূপকুণ্ড হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার ফুট ওপরে। হ্রদটির চারপাশে ও বরফের নিচে মানুষের কঙ্কালে ভরা। ১৯৪২ সালে ‘কঙ্কাল হ্রদটি’ আবিষ্কার করেন একজন টহলরত ব্রিটিশ বনরক্ষী। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, হ্রদটি আবিষ্কারের ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও কঙ্কালের বিষয়টি এখনো অজানা। নৃবিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে একাধিক গবেষণাও করেছেন। ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে বছরের পর বছর বিজ্ঞানী ও দর্শনার্থীরা হ্রদটি ভ্রমণ করেন।

ঋতু ও আবহাওয়ার ভিত্তিতে হ্রদটির আকার ছোট–বড় হয়। বছরের প্রায় পুরোটা সময় দেহাবশেষগুলো বরফে জমাট থাকে। তবে যখন বরফ গলতে থাকে, তখন ভেসে ওঠে কঙ্কালগুলো। এখন পর্যন্ত হ্রদটিতে ৬০০ থেকে ৮০০টি কঙ্কাল পাওয়া গেছে। পর্যটক আকর্ষণের জন্য স্থানীয় সরকার হ্রদটিকে ‘রহস্যজনক হ্রদ’ আখ্যা দিয়েছে।

দেহাবশেষগুলো নিয়ে গবেষণা করার সময় নানা প্রশ্ন এসেছে নৃবিজ্ঞানীদের মনে। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: লোকগুলো কারা? কখন তাঁরা মারা গেছেন? কীভাবে মারা গেছেন? তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন?

পুরোনো একটি তত্ত্বমতে, দেহাবশেষগুলো একজন ভারতীয় রাজা, তার স্ত্রী এবং তাদের সহযোগীদের। প্রায় ৮৭০ বছর আগে অতিরিক্ত বরফ পড়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়। আরেকটি তত্ত্বে বলা হয়েছে, দেহাবশেষগুলো ভারতীয় সেনাদের, যারা ১৮৪১ সালে তিব্বত আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন। পরে পিছু হটে আসার সময় তাদের হত্যা করা হয়।

আরেকটি ধারণা আছে, এটি একটি সমাধিস্থল হতে পারে। মহামারিতে মারা যাওয়ার পর তাদের সেখানে সমাহিত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় গ্রামগুলোতে একটি লোকসংগীত মানুষের মুখে মুখে বাজে। সেই লোকসংগীতে নন্দ দেবী নামের এক দেবীর কথা বর্ণনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওই দেবী একটি শক্তিশালী ঝড় সৃষ্টি করেন। সেই ঝড়ের কারণেই হ্রদে পড়ে লোকজন মারা যান। ওই দেবীর নামানুসারে ভারতে একটি পর্বতমালারও নামকরণ করা হয়েছে, যেটি দেশটির দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতমালা।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কঙ্কাল পাওয়া গেছে, তার অধিকাংশের উচ্চতা সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি। অধিকাংশ মধ্যবয়সী, বয়স ৩৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। সেখানে কোনো শিশু বা কিশোর নেই। আছে কিছু বয়স্ক নারী। তবে তারা সবাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, কঙ্কালগুলো একটি সম্প্রদায়ের মানুষের। তারা নবম শতাব্দীতে একটি বিপর্যয়কর দুর্ঘটনায় একসঙ্গে মারা গেছেন

গবেষণার প্রধান লেখক ও হার্ভাড ইউনিভার্সিটির পিএইচডি ছাত্র এডাইন হার্নি বলেছেন, ‘রূপকুণ্ড লেকে আসলে কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই মৃত্যুগুলো যে একক কোনো ঘটনার মাধ্যমে ঘটেছে, তা আমরা মনে করি না।’ জিনগত গবেষণায় উঠে এসেছে যে দেহাবশেষগুলোয় নানা ভিন্নতা রয়েছে। যেমন বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করা লোকের সঙ্গে কিছু দেহাবশেষের জিনগত মিল পাওয়া গেছে। অন্যদিকে কিছু দেহাবশেষের জিনগত মিল পাওয়া গেছে ইউরোপের, বিশেষ করে গ্রিক আইল্যান্ড ক্রিটের বর্তমান বাসিন্দাদের সঙ্গে।

সুদূর ইউরোপ থেকে দুর্গম এই তীর্থস্থান মানুষের ভ্রমণ করার বিষয়টি অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। ফলে নিশ্চিত করে কোনো কিছুই বলা যাচ্ছে না। হার্নি বলেছেন, ‘আমরা এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি।

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

এই সম্পর্কিত আরও খবর...