সিলেটে করোনা আক্রান্তের হার ৫ শতাংশের নিচে

সিলেট অফিস

  • প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

নেই হাসপাতালে চাপ। নেই রোগীর স্বজনদের আহাজারী। নেই অ্যাম্বুলেন্সের বিরামহীন ছুটে চলা। কারণ গত প্রায় ৩ সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে সিলেটে করোনা আক্রান্তের হার ৫ শতাংশের নিচে বা কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোটোকল অনুযায়ী সিলেটে নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই চলে এসেছে ভয়ঙ্কর করোনা। এতে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন সিলেটের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোটোকল অনুযায়ী টানা ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরে নেয়া হয়। সেই হিসেবে সিলেটে ৩ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে বা কাছাকাছি নেমে এসেছে।
গত জুলাই-আগস্টে সিলেটে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলো চাপ সামলাতে হিমশিম খায় স্বাস্থ্য বিভাগ। দেখা দেয় আইসিইউ বেড সংকট। দেখা দেয় অক্সিজেন সংকটও। চারিদিকে চলে মৃত্যুর মিছিল। হাসপাতালের দরোজায় দরোজায় রোগী নিয়ে ভিড় করেন স্বজনরা। সময়ের স্রোতে সেই চিত্র বদলে যায় সেপ্টেম্বরে এসে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত জুনের শেষ দিকে বিভাগে করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। সে সময় দৈনিক গড় শনাক্তের হার ৩০ ওপরে ছিল। এরপর জুলাই ও আগস্টে সেটি ৪৩ শতাংশে পৌঁছায়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে শনাক্তের হার ১ থেকে ৩-এর ঘরে নেমে গিয়েছিল। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। ১৪ সেপ্টেম্বর শনাক্ত হার ৬ দশমিক ৩৮-এ নামে। পাঁচদিন ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যেই উঠানামা করে। ১৭ সেপ্টেম্বর শনাক্ত হার ৪ দশমিক ৮২ শতাংশে নেমে যায়। ২৪ সেপ্টেম্বর ৩ দশমিক ২৩ শতাংশে নামে। আর উর্ধ্বমুখী হয়নি আক্রান্ত হার। ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে হার। এরপর বিভাগে আক্রান্তের হার ১ থেকে ২-এর ঘরে ওঠানামা করছে। গত সোমবার বিভাগের ৩ জেলায়ই শনাক্ত হার শূন্য শতাংশের কোঠায় ছিলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সিলেট জেলায় করোনা রোগীদের জন্য ৪৮৭টি শয্যা আছে। কিন্তু এর মাঝে ৪৫১টিই খালি আছে। গতকাল পর্যন্ত জেলার হাসপাতালগুলোতে ৩৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। এতে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ শয্যাই এখন খালি। এছাড়া সুনামগঞ্জের হাসপাতালে ৩ জন, হবিগঞ্জের হাসপাতালে ২ জন ও মৌলভীবাজারের হাসপাতালে ৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায়ও করোনা পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতির চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। তবে এ সময় নতুন করে ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। মোট পরীক্ষার ২.২৯ শতাংশের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সিলেট জেলায় শনাক্তের হার ১.৬৫ শতাংশ, সুনামগঞ্জে শূণ্য শতাংশ, হবিগঞ্জে ৭.৯৪ এবং মৌলভীবাজারে ৩.৭০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘন্টায় বিভাগে শনাক্ত হার ছিলো ১ দশমিক ১১ শতাংশ।

নতুন শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন সিলেট জেলার বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার ৫ জন এবং মৌলভীবাজার জেলার ৩ জন রয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৬৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন, সুনামগঞ্জে ৬ হাজার ২৪২ জন, হবিগঞ্জে ৬ হাজার ৬৩৯ জন ও মৌলভীবাজারে ৮ হাজার ১১৯ জন রয়েছেন।
এখন পর্যন্ত বিভাগে করোনাভারাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৯৭৬ জন, সুনামগঞ্জে ৭২ জন, হবিগঞ্জে ৪৮ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় ৭২ জন মারা গেছেন।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জন সিলেট জেলার হাসপাতালে এবং ১ জন হবিগঞ্জ জেলার হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৩৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুস্থদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট জেলার বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে হবিগঞ্জের ১৫ জন এবং মৌলভীবাজার জেলার ৭ জন রয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৩৮০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩১ হাজার ৩৬৬ জন, সুনামগঞ্জে ৬ হাজার ১১ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ৩ হাজার ৭৬৭ জন ও মৌলভীবাজারে ৭ হাজার ২৩৬ জন সুস্থ হয়েছেন।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেটের হাসপাতালে নেই করোনা রোগীর চাপ। কারণ সংক্রমণের হার কমেছে। যা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে শনাক্তের হার কম থাকলেও করোনা রোধে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...