সিলেটে সাড়ে ১১ লাখ মানুষ ভ্যাকসিনের ২য় ডোজের অপেক্ষায়

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২১, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ

সিলেটে ক্রমশ দীর্ঘায়িত হচ্ছে করোনা ভ্যাকসিনের ২য় ডোজের অপেক্ষমানদের তালিকা। সিলেট বিভাগে নিবন্ধিতের মধ্য থেকে ৭ লাখ ৪৭ হাজার ১২৫ জন ১ম ডোজের অপেক্ষায় থাকলেও ২য় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছেন ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৮৮ জন। মহানগর পর্যায়ে ১ম ডোজের পাশাপাশি ২য় ডোজের কার্যক্রমে গতি থাকলেও ২য় ডোজ গ্রহণে পিছিয়ে আছে জেলা ও উপজেলাগুলো। ফলে বাড়ছে ২য় ডোজের অপেক্ষমানদের সংখ্যা। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলীতে প্রতি মাসে ধারাবাহিক টিকা দেয়ার কারণে ১ম ডোজের অপেক্ষমানের সংখ্যা কমছে। আর ১ম ডোজ গ্রহীতার সংখ্যা বাড়লে ২য় ডোজের অপেক্ষমানের তালিকা দীর্ঘ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগে ১ম ও ২য় ডোজ মিলিয়ে ইতোমধ্যে ৪৮ লাখ ৩২ হাজার ৪৭৬ ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৫ ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে চীনের তৈরী টিকা সিনোফার্ম (ভেরোসেল)। ৬ লাখ ৬ হাজার ২৩৬ ডোজ প্রয়োগ হয়েছে অক্সফোর্ডের তৈরী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড। ২ লাখ ৬৪ হাজার ২৬৮ ডোজ প্রয়োগ হয়েছে আমেরিকার তৈরী মডার্নার টিকা। জার্মান বায়োএনটেকের তৈরী ১ লাখ ৩ হাজার ১৭ ডোজ ফাইজারের টিকা প্রয়োগ হয়েছে। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৭ ডোজ সিনোফার্ম, ২ লাখ ২৭ হাজার ২৩১ ডোজ কোভিশিল্ড, ৫২ হাজার ১৪৩ ডোজ ফাইজারের টিকা প্রয়োগ হয়েছে।

সিলেট মহানগর এলাকায় ২ লাখ ৯ হাজার ৮৫৪ ডোজ সিনোফার্ম, ১ লাখ ২১ হাজার ২৭৭ ডোজ কোভিশিল্ড, ৪৯ হাজার ২৪৫ ডোজ ফাইজার ও ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৬ ডোজ মডার্নার টিকা প্রয়োগ হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় ৯ লাখা ৩৩ হাজার ৩৪০ ডোজ সিনোফার্ম, ১ লাখ ২৬ হাজার ৬১৬ ডোজ কোভিশিল্ড, ২৭ হাজার ৬৭৮ ডোজ ফাইজারের টিকা প্রয়োগ হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫৮ ডোজ সিনোফার্ম, ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৮২ ডোজ কোভিশিল্ড, ২৩ হাজার ১৯৬ ডোজ ফাইজারের টিকা প্রয়োগ হয়েছে। মৌলভীবাজারে ৮ লাখ ১০ হাজার ৪৯০ ডোজ সিনোফার্ম, ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭০৭ ডোজ কোভিশিল্ডের টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনার টিকা পেতে নিবন্ধন করেছেন ৩৭ লাখ ১ হাজার ৯১ জন। এর মধ্যে ১ম ডোজের টিকা নিয়েছেন ২৯ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৬ জন। ২য় ডোজ নিয়েছেন ২০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১৫ জন। বিভাগে ১ম ডোজ গ্রহণে এগিয়ে আছে সিলেট মহানগর এলাকা। নগরীতে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৩ জন নিবন্ধন করে ১ম ডোজ নিয়েছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৭ জন। ১ম ডোজের অপেক্ষায় আছেন ২৩ হাজার ৬৮৬ জন। এদিকে ১ম ডোজ গ্রহণে পিছিয়ে আছে সিলেট জেলা। এ জেলায় ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৫১ জন মানুষ নিবন্ধন করে ১ম ডোজ পেয়েছেন ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৪১৬ জন। ১ম ডোজের অপেক্ষায় আছেন আরো ২ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৫ জন। হবিগঞ্জ জেলায় ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ জন নিবন্ধন করে ১ম ডোজ নিয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৮৫৩ জন। এখানে ১ম ডোজের অপেক্ষায় আছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। মৌলভীবাজার জেলায় ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৭২৪ জন নিবন্ধন করে ১ম ডোজ নিয়েছেন ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৪ জন। ১ম ডোজের অপেক্ষায় আছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ জন। সুনামগঞ্জ জেলায় ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩২১ জন নিবন্ধন করে ১ম ডোজ নিয়েছেন ৬ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ জন। ১ম ডোজের অপেক্ষায় আছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৮ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগে ২য় ডোজ নিয়েছেন ২০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১৫ জন। এর মধ্যে সিলেট নগরীতে ২য় ডোজ নিয়েছেন ২ লাখ ৮৫ হাজার ৩৫৫ জন। এখানে ২য় ডোজের অপেক্ষায় আছেন ৬৩ হাজার ৯৩২ জন। সিলেট জেলায় ২য় ডোজ নিয়েছেন ৬ লাখ ৪ হাজার ৪৩ জন। ২য় ডোজের অপেক্ষায় আছেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭৩ জন। সুনামগঞ্জ জেলায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩৮১ জন ২য় ডোজ নিয়েছেন। অপেক্ষায় আছেন আরো ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭২ জন। হবিগঞ্জ জেলায় ২য় ডোজ নিয়েছেন ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮৩ জন। অপেক্ষায় আছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭০ জন। মৌলভীবাজার জেলায় ২য় ডোজ নিয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫৩ জন। ২য় ডোজের অপেক্ষায় আছেন আরো ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেট বিভাগে টিকা প্রদানে ধীরগতি নয়। বরং সিলেট বিভাগ করোনার টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সেরা। গ্রাম পর্যায়ে বাচ্চাদের মতো এখন বড়দের করোনার টিকা দেয়া হচ্ছে। প্রতিটা গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকে মাসে ১ থেকে দুইবার চলছে টিকা কার্যক্রম। এতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। এজন্য নিবন্ধিতের মধ্যে অপেক্ষমানদের সংখ্যা কমছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে যখন ২য় ডোজের কার্যক্রম শুরু হবে তখন এই সংখ্যাটা হৃাস পাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...