বড় ভাঙ্গনের মুখে কংগ্রেস, মেঘালয়ে প্রধান বিরোধী হচ্ছে তৃণমূল

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২১, ১:২১ অপরাহ্ণ


বাংলাদেশের সীমান্ত-লাগোয়া ভারতের মেঘালয় রাজ্যে কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরিয়েছে তৃণমূল। সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার অনলাইন জানায়, কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা মুকুল সাংমা অন্তত ১২ জন বিধায়ককে নিয়ে দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

ফলে মেঘালয়ে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১৮ থেকে কমে হবে ৬। সে হিসেবে মেঘালয়ে প্রধান বিরোধী দল হতে পারে তৃণমূল।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সঙ্গে সাক্ষাতের এক সপ্তাহের মধ্যে মুকুল এ ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। এতে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে নিজেদের খুঁটির জোর অনেকটাই মজবুত করতে যাচ্ছে তৃণমূল।

২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল। বর্তমানে তিনি ওই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল দল ছাড়লে মেঘালয়ে কংগ্রেসের বড় ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

২০০৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে মেঘালয়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা লোকসভার সাবেক স্পিকার পি এ সাংমা এনসিপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। ওই বছর লোকসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে জেতেন তিনি। প্রয়াত পূর্ণের ছেলে কনরাড বর্তমানে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী এবং এনপিপি দলের প্রধান।

কিন্তু মুকুল হঠাৎ কেন কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? স্থানীয় সূত্রে খবর, মাস দেড়েক আগে তার বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত লোকসভার সংসদ সদস্য ভিনসেন্ট পালাকে মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়।

তারপর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ শুরু হয় মুকুলের। এতোদিনে তা পরিণতি পেল। সুস্মিতা দেবের পর মুকুল এমন একজন নেতা তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন, যার উত্তর-পূর্বে জনভিত্তি রয়েছে।

২০২৩ সালে মেঘালয় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতের জাতীয় নির্বাচন (লোকসভা নির্বাচন) অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক দল হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তৃণমূল দুর্দান্ত প্রতাপে পরিণত হচ্ছে ভারতের জাতীয় দলে। ইতোমধ্যে ত্রিপুরা, গোয়া, হরিয়ানা, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...