বেথনাল গ্রিনে বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড : ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক সক্রিয় ছিলেন মেয়র লুতফুর রহমান

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২২, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

গত ৪ আগস্ট শর্ডিচের গ্র্যানবি স্ট্রীটে অবস্থিত (অফ বেথনাল.গ্রিন রোড) ৮তলা একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৫টি ফ্লাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে আহত একজন বাসিন্দাকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৫টি ফায়ার ইঞ্জিন এবং ১শ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মীর আপ্রাণ চেষ্টায় স্বল্প সময়ের.মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু তাঁর আগেই ব্যাপক বিস্ফোরণে ওই ব্লকের কয়েকটি ফ্ল্যাটের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পুরো ভবনটি ধোঁয়ার কুণ্ডলিতে
ছেয়ে যায়।

তবে উদ্ধারকর্মীরা ভবনের পাশেই অবস্থিত একটি চার্চে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নিতে সমর্থ হন । এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের কাছে হাজির হন টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুতফুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একাধিক কাউন্সিলারও। প্রায় সারারাত ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের সঙ্গে থেকে মেয়র লুতফুর রহমান তাদের আশ্বস্ত করেছেন। উদ্ধারকাজসহ বাসিন্দাদের জন্য কাউন্সিল ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টসহ অন্যান্য এজেন্সীর সব ধরনের সেবা তদারকি করেছেন। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস খুব সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের রোট ম্যানেজার সিবা খানমের নেতৃত্বে গভীর রাত পর্যন্ত বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নিতে অনেক গুলো বাস সার্ভিস ব্যবহার করেছেন। যার কারনে বাসিন্দাদের নিরাপদে রাখা সম্ভব হয়েছে। মেয়র লুতফুর রহমান রাতের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করে দেয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করেছেন প্রয়োজনীয় সকল সেবা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁর এই সক্রিয় ভূমিকা পালনের ভূয়সী প্রশংসা.করেছেন অগ্নিকাণ্ডের শিকার ভবনের অনেক বাসিন্দা।

তারা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে নিজে উপস্থিত থেকে আক্রান্তদের সব ধরণের সেবা নিশ্চিত করে জনসেবার অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন তিনি। শতাধিক ফ্লাটের এই ভবনের দোতলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটিতে গ্যাস বিস্ফোরণের কারণে আগুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তুমুল বিস্ফোরণে ভবনের একটি দেওয়াল ধসে পড়ে। আশপাশের ভবনেরও জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়। বিস্ফোরণের ব্যাপক শব্দে এলাকার আশপাশের মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ার ছেয়ে যায় পুরো ভবনটি। ভবনের ১৫টি ফ্ল্যাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ভবনের মূল কাঠামোর বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার ব্রিগেডের ১৫টি গাড়ী, ১শ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং মেট্রোপলিটান পুলিশের ৪০ জন সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দ্রুতই তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হন। আগুনে গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আরও ৩৬ জনকে হাসপাতালে নেয়া হলেও ৩৩ জন ওই রাতেই ছাড়া পান ৷ বাকী ৩ জনকে হাসপাতালে রাখা হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে । আক্রান্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ব লণ্ডনের বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেয়র লুতফুর রহমান অগ্নিনির্বাপক বিভাগের কর্মী, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবী, ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলেরকর্মকর্তা এবং ঐরাতে তাঁকে সঙ্গ দেয়া কাউন্সিলারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন । তিনি বারার সকল বাসিন্দাকে আগুনের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহবান জানান ।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...