সরকারের নির্দেশেই ১৫০ আসনে ইভিএমের সিদ্ধান্ত

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২২, ৬:২৪ অপরাহ্ণ

সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর।

তিনি বলেন, সরকার ৩০০ আসনে ইভিএম চেয়েছিল। কমিশন সমঝোতার মাধ্যমে অর্ধেক আসনে সরকারের সঙ্গে রফা করেছে। এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত যে, নির্বাচন কমিশন সরকারের হয়েই কাজ করছে। বিএনপি নির্বাচন কমিশন নিয়ে ভাবছে না। সরকার সরিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।

বুধবার বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (১ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনেক চড়াই উতরাই গেছে এই দলের, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে দেশের জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। বিএনপি আবার বেগম জিয়ার নেতৃত্বে জেগে উঠেছে। কিন্তু তিনি কারান্তরীণ হয়ে আছেন। বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে আর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যারা বলেন, তারা অসত্য বক্তব্য দিচ্ছেন। বরং তারাই সে পথ ধরে নিজেরা আসছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের অধিকার হরণ করে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে জবরদখল করে ক্ষমতায় টিকে আছে আওয়ামী লীগ সরকার। কথা বলে এক রকম, কাজ করে আরেক রকম। প্রধানমন্ত্রী একদিকে বললেন, সভা সমাবেশ করতে দেবে; অন্যদিকে ভোলায় দুই কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হলো।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য মতে খেলা হচ্ছে, কিন্তু সেটা মানুষের বাসায় আর বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর। সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

বর্তমান সরকারের হাত থেকে জনগণ মুক্তি চায় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইভিএম নিয়ে বিএনপির কোনো আগ্রহ নেই, মূল দাবি, সরকার পরিবর্তন না হলে কোনো কমিশনের অধিনেই নির্বাচনে সুষ্ঠু হবে না। সরকারের সঙ্গে ইসির রফা (সমঝোতা) হয়েছে যার মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। ইভিএমে ভোটের মাধ্যমে ইসি সরকারের ইচ্ছার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটাবে। এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। বিএনপিও এসব ইভিএম মানে না।

সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিতে হবে, তবে তা হতে হবে ব্যালটে। ইভিএম নয় ভোট হতে হবে ব্যালটে। তবে তার আগে সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আব্দুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...