আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফারদিন বিভিন্ন স্থা‌নে ঘোরেন: ডি‌বি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ৮:২৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লি‌শের গো‌য়েন্দা বিভা‌গের প্রধান অতিরিক্ত ক‌মিশনার হারুন অর রশীদ ব‌লেছেন, ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনা আমরা তদন্ত করেছি। দীর্ঘ ৩৮ দিনের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমরা তার মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বলেছি। বান্ধবী বুশরাকে রামপুরায় নামিয়ে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ব্যাখ্যা দিয়েছি। আসলে তার সঙ্গে কেউ ছিল না, একা একাই বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছিলেন তিনি।

বৃহস্প‌তিবার ডিএম‌পির মি‌ডিয়া সেন্টা‌রে সাংবা‌দিক‌দের স‌ঙ্গে আলাপকা‌লে ডি‌বি প্রধান ব‌লেন, যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় করে ডেমরার সুলতানা কামাল সেতুর একপাশে ফার‌দিন নামেন। কিন্তু তিনি চনপাড়ার দিকে যাননি, সেখানে কোনো ঘটনাও ঘটেনি। ৩৮ দিন তদন্ত শেষে এটিকে আমরা আত্মহত্যার ঘটনা বলেছি। এ বিষয়ে বুয়েটের ৪০ জন শিক্ষার্থী এসে তিন ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। আমরা তার পরিবার, বন্ধু-আত্মীয়দের বলেছি ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন।

ডিবি প্রধান আরও বলেন, ফারদিন সেদিন রাতে বাবুবাজার ব্রিজ ও সুলতানা কামাল ব্রিজে যান। অথচ গত ২ বছরেও তিনি এসব এলাকায় যাননি। ফারদিন ২ বছরে ফোনে ৫২২টি নম্বরে কথা বলেছেন। আমরা সবার কাছে খোঁজ-খবর নিয়েছি।

ফারদিন বিভিন্ন ধরনের বই পড়তেন উল্লেখ করে হারুন অর রশীদ বলেন, তিনি বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় হতাশার কথা বলেছেন। এক বান্ধবীকে লিখেছেন ‘৩০ বছরের বেশি কারও বাঁচার দরকার নাই’।

তিনি আরও বলেন, আবার কাউকে লিখেছেন ‘যদি মারা যাই, বন্ধু সাজ্জাদ কষ্ট পাবে’। আরেকজনকে লিখেছেন ‘কোনো একদিন শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবে আমি আত্মহত্যা করেছি’। ফারদিন শুক্রবারেই আত্মহত্যা করেছেন।

তি‌নি ব‌লেন, বন্ধুদের সঙ্গে তার কথা পর্যালোচনা করে মনে হয়েছে ফারদিন হতাশায় ভুগছিলেন। তাছাড়া ফারদিনের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না, ধস্তাধস্তির আলামত নেই। তার মোবাইল-টাকা পকেটে ছিল, হাতে ঘড়ি ছিল। কোনোকিছু খোয়া যায়নি। বুয়েটের ৪০ জন শিক্ষার্থীও এসব আলামত দেখে একমত পোষণ করেছেন।

ডিবি প্রধান বলেন, ফারদিন আত্মকেন্দ্রিক ছিলেন। তার রেজাল্ট খারাপ হচ্ছিল, কিন্তু কাউকে কিছু বলেননি। ফারদিন লিখেছেন ৯৫ ভাগ মানুষের জীবন পরিবার দ্বারা সীমাবদ্ধ। হয়তো পরিবার তাকে বাসায় থাকতে বলতো, কিন্তু তিনি চাচ্ছিলেন না। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই এখানে মার্ডারের কোনো লক্ষণ নেই। যেসব ব্রিজে তিনি গিয়েছেন সেদিন রাতে এর আগে ২ বছরেও সেসব এলাকায় যাননি।

সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা বুধবার তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি এ বিষয়ে। কোনো মানুষ যদি দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করে সেখানে তো সাক্ষী থাকে না। পারিপার্শ্বিক বিষয় দেখে মনে হয়েছে তিনি আত্মহত্যা করবেন সিদ্ধান্ত নিয়েই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সবকিছু মিলিয়েই আমরা সিদ্ধান্তে এসেছি।

কারাগারে বন্দি ফারদিনের বান্ধবী বুশরার বিষয়ে সাংবাদিক‌দের অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আদালতের বিষয়। আমরা আমাদের রিপোর্টে তার সংশ্লিষ্টতা না থাকার বিষ‌য়ে জানিয়ে দেবো।

Print This Post Print This Post

এই সম্পর্কিত আরও খবর...