সিলেটের ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম, রফতানি হচ্ছে ১৩ দেশে

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ৮:১৮ অপরাহ্ণ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ জাতের ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম চাষ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় এই শিম দেশে-বিদেশে সমান জনপ্রিয়। ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাজ্য-কানাডাসহ ইউরোপের ১৩টি দেশে রফতানি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ৫শ ৫৫ হেক্টর জমিতে ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম চাষ হয়েছে। উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন লক্ষ্মণাবন্দ, লক্ষ্মীপাশা ও ফুলবাড়ি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি এ শিমের চাষ হয়। চলতি বছর এসব জমিতে ৮৫ মেট্রিক টন শিম উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি অফিস।

‘গোয়ালগাদ্দা’ শিমের ওপর ওই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৪শ ৫০টি পরিবার জড়িত। যাদের বেশিরভাগ এ শিম বিক্রির টাকা দিয়ে পুরোবছর চলে।

‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম চাষ করে প্রতি মৌসুমে একেকটি পরিবার পাঁচ-ছয় লাখ টাকা আয় করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। তারা জানান, ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিমের বীজ এই তিনটি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় নিয়ে রোপণ করলে ফলন তেমন ভালো হয় না। এই তিন ইউনিয়নের মাটি এ শিম চাষের জন্য উপযোগী।

সবজি রফতানিকারক ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের প্রায় ১৩টি দেশে গোলাপগঞ্জের ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম রফতানি হয়ে থাকে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ শিম রফতানি হয়। যুক্তরাজ্যের প্রবাসীদের মধ্যে ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম খুবই প্রিয় একটি সবজি।

উপজেলার লক্ষ্মণাবন্দ ইউনিয়নের যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই সবুজ ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিমের ক্ষেত দেখা যায়। স্থানীয় পুরকায়স্থবাজার ও চৌধুরীবাজারে হাটের দিন শিম বেচাকেনা হয়ে থাকে। এছাড়া কৃষকরা ক্ষেত থেকে শিম তুলে ঠেলাগাড়ি বা ভ্যানগাড়ি দিয়ে বিক্রির জন্য হেতিমগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ বাজারে নিয়ে যান। কেউ কেউ আবার ক্ষেতে থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ীদের কাছে শিম বিক্রি করে দেন। অনেক সময় দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিম কিনতে ট্রাক নিয়ে ব্যবসায়ীরা বাজারে হাজির হন। সিলেটের বিভিন্ন বাজারে এ শিম ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী রুহুল আহমদ জানান, প্রতি হাটে তিনি এখান থেকে শিম কিনে নিয়ে যান। এরপর তিনি এজেন্সির মাধ্যমে শিম ঢাকায় পাঠান। সেখান থেকে শিমগুলো দেশের বাইরে রপ্তানি হয়।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের মাদাখাপড়া গ্রামের কৃষক মো. সাদিক মিয়া জানান, তিনি চলতি বছর ৯০ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। সবমিলিয়ে তার লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এবার তিনি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন।

ঢাকা দক্ষিণের বিদাইটিকর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি চলতি বছর ১৮০ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। শেষ পর্যন্ত খরচ বাদে তিন/চার লাখ টাকা লাভ হবে।

তিনি বলেন, এই টাকা দিয়ে পুরো বছরের পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করতে হয়।

আবু সালেহ নামে এক শিম চাষি জানান, প্রতিবছর তারা নিজ খরচে শিম চাষ করেন। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পান না। সরকারি সহযোগিতা শিম চাষ আরও বৃদ্ধি করতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাশরেফুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এ বছর ৫৫৫ হেক্টর জমিতে ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম চাষ হয়েছে। আগামী বছর ৬০০ হেক্টর জমিতে এ শিমের চাষ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছর ৮৫ মেট্রিক টন শিম উৎপাদন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। শিমের ফলন বৃদ্ধিতে সরকারিভাবে যাতে তাদের সহযোগিতা করা যায় সেজন্য চেষ্টা করবো।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...