সব
সিলেট অফিস,
বৃদ্ধা বাবার কষ্ট দূর করতে সাত বছর আগে দেশান্তরী হন শাহীন । চার বছর ইরানে ও এক বছর তুরস্কে থাকার পর দুই বছর আগে গ্রিসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। ছেলেকে হারিয়ে সেই বাবা এখন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সংসারের উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে কাঁদতেও ভুলে গেছেন মমিনের বিধবা মা গোলেছা বিবি।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের কামড়াখাই গ্রামের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আবদুল মমিন ও একই গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে শাহীন মিয়াকে শেষবার দেখতে চাইছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাদের চাওয়া, সরকার যেন তাদের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন।
জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)আবদুল মমিন ও শাহীন মিয়া গ্রীসের আসপোগিরগো এলাকায় একটি কনটেইনার কোম্পানিতে পাহারাদার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা গুলি করে তাদের হত্যা করে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নিহত মমিন প্রবাসে বসবাস করে আসছেন। তিনি প্রথমে এক বছর ইরান, তুরস্কে দুই বছর থাকার পর গত ১০ বছর ধরে গ্রিসে বসবাস করছিলেন। নিহত মমিনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
এদিকে নিহত শাহীন পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর চিন্তা করে সাত বছর পূর্বে দেশান্তরী হন। চার বছর ইরানে ও এক বছর তুরস্কে থাকার পর দুই বছর ধরে গ্রিসে কর্মরত ছিলেন।
শুক্রবার মমিন ও শাহীন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে করুণ দৃশ্য। নিহত মমিনের মা গোলেছা বিবি শোকে স্তব্দ। নিহত শাহীন মিয়ার বাবা নুর হোসেন পূত্র শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। মমিন মিয়ার ছেলে মেয়েদের কান্না দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও।
মমিনের মা গোলেছা বিবির সাথে আলাপকালে তিনি কান্নাকণ্ঠে বলেন, সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি- ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চাই। তিনি ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন। মমিনের বড় ছেলে রায়হান বাবা হত্যার বিচার দাবি ও লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যপারে হবিগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশন-ইন গ্রিসের সভাপতি শফিক মিয়া জানান, দুটি কনটেইনার ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নেয় দুর্বৃত্তরা। মমিন ও শাহীন বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান। এ নিয়ে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এদিকে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে।
নবীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন জানান, নিহতদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। লাশ দেশে ফেরাতে সরকারিভাবে যা কিছু করতে হয় সেই পদক্ষেপ উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।