চট্টগ্রামে ইফতারি বাজার মন্দা : আগ্রহ নেই ঈদ শপিংয়ে

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২১, ৪:৫২ অপরাহ্ণ

দর্জিপাড়া জমজমাট থাকত রমজানের আগে। কাপড় সেলাইয়ের জন্য ভিড় লেগে থাকত সেখানে। এটা ঈদের আগে প্রতিবছরের চিত্র হলেও এবারের পরিবেশ একেবারেই উল্টো। দর্জিপাড়া কোলাহলহীন। টেরিবাজারের থান কাপড়ের দোকানগুলো শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, সালোয়ার, পেটিকোট, সেলাইছাড়া থ্রিপিস ইত্যাদি বেচাকেনা শেষ করতো রমজানের প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে।

করোনা প্রতিরোধে সর্বাত্মক লকডাউনের কারণে এবার ঈদবাজারে ভাটা পড়েছে। লকডাউন শিথিল হলেও করোনা সংক্রমণের উচ্চমাত্রার কারণে ক্রেতারা কিন্তু মার্কেটের দিকে এগুচ্ছে খুব কম। তাছাড়া কাপড় সেলাইয়ের সময় ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হওয়ায় থান কাপড়ের দোকানগুলোতেও ভিড় কম। দোকানপাট খোলা রাখা হলেও বিকিকিনি চলছে ধীরলয়ে।

অন্যদিক, রমজান এলেই বিকেল থেকে ইফতারি বিক্রির ধুম লেগে যেতো। ক্রেতারা মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের ইফতারি আইটেম কিনতে হোটেল রেস্টুরেন্টে ভিড় করতেন। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও করোনা পরিস্থিতি সব কিছু পাল্টে দিয়েছে। এখন অল্প কিছু ইফতারি নিয়ে দোকানিরা বসে থাকলেও খুব একটা দেখা মিলছে না ক্রেতার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এ বছরের অবস্থা একেবারে খারাপ। লকডাউনের কারণে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ। তাই ইফতারি বাজারেও পড়েছে ভাটা। আগে দূর দূরান্ত থেকে ইফতারি কিনতে অনেকে ছুটে আসতেন। এখন সেই দৃশ্য আর দেখা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর জিইসি মোড়, ২ নং গেট, ওয়াসা মোড় ও নিউ মার্কেট এলাকার ইফতারির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা রেশমী জিলাপি, শাহী জিলাপি, বুরিন্দা, চনাবুট, পিঁয়াজু, বেগুনি, ছমুচা, অন্থন, চিকেন স্পিং রোল, চিকেন জালি কাবাব, চিকেন সাসলিক, চিকেন উইংস, চিকেন ড্রামস্টিক, উইংস চপ, স্পাইসি চিকেন ফ্রাই, গ্রী চিকেন, চিকেন শর্মা, শর্মা বার্গার, বাটার নান, শাহী পরাটা, চিকেন চপ, চিকেন টিক্কা, চিকেন বটি কাবাব, বিফ সিক কাবাব, জাফরানি শরবত, বোরহানি, ফিন্নি, চিকেন শাহী হালিম, বিফ শাহী হালিমের পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। কিন্তু বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা নেই। ব্যক্তিগত বাহন নিয়ে কিছু কিছু ক্রেতাকে অবশ্য মুখরোচক এসব পণ্য কিনতে দেখা যায়।

নিউ মার্কেট এলাকার ‘ডিলাইট’ শপের ম্যানেজার কাউসার উদ্দিন বলেন, গত বছরের তুলনায় বেচাবিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এখন ইফতারি বিক্রি করার সময়, দম ফেলার সময় ফুসরত থাকতো না। ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যেত। এখন ইফতারি বিক্রি করতে হচ্ছে একেবারে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে।

এদিকে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির খবর, দেশে তীব্র গরম, গণপরিবহন বন্ধ থাকা, কর্মজীবীদের বেতন- বোনাসের অপেক্ষাসহ নানা কারণে বেচাকেনা নেই তেমন।

টেরিবাজারে ৮২টি বিপণিকেন্দ্রের (মার্কেট) আড়াই হাজার ছোট-বড় দোকানে ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ঈদবাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন। চট্টগ্রামে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে সব শ্রেণির ক্রেতাদের কাছে রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমন্ডি লেন বেশ পরিচিত। তামাকুমন্ডি লেন ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক জানান, এখানে ১১০টি বিপণিকেন্দ্রে (মার্কেট) ১৩ হাজার দোকান রয়েছে।

মফস্বলের অনেক দোকানি এখান থেকে পাইকারি পণ্য কিনে নিয়ে যায় ঈদের আগে। কিন্তু লকডাউনের কারণে এবার তা বন্ধ বললেই চলে। ফলে বন্ধ রয়েছে দোকানিদের কালেকশন বা বাকি টাকা আদায়ও।

জহুর হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলুল আমিন জানান, আমাদের প্রায় ১ হাজার দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সব বয়সের নারী-পুরুষ কেনাকাটা করতে আসেন ঈদের আগে। সবাই দোকান খুলে বসে থাকলেও লকডাউনের কারণে বেচাকেনা নেই তেমন। তবে সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণের মাত্রার উপর নির্ভর করছে এবারের ঈদ বাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...