নতুন মহাকাশ কেন্দ্রের প্রথম মডিউল উৎক্ষেপণ করলো চীন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২১, ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ

পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করতে যাওয়া স্থায়ী মহাকাশ কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ মডিউল উৎক্ষেপণ করেছে চীন। লং মার্চ ফাইভ বি রকেটে করে ওয়েনচাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। দ্য তিয়ানহে নামের এ মডিউলে রয়েছে ক্রু সদসদের জন্য থাকার ঘর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মহাকাশ গবেষণার সূচনাকারীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে চীন। কেবল ২০০৩ সালে কক্ষপথে নিজেদের নভোচারী পাঠাতে সক্ষম হয় দেশটি। তার আগেই রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নভোচারী পাঠিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মহাকাশ গবেষণার ওপর জোর দিয়েছে চীন। এরই অংশ হিসেবে স্থায়ী একটি মহাকাশ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় দেশটি।
চীন আশা করছে, ২০২২ সাল নাগাদ তিয়ানগং নামের মাল্টি মডিউল এ মহাকাশ কেন্দ্রটি কার্যক্রম শুরু করবে। ৬৬ টন ওজনের এ কেন্দ্রটি কমপক্ষে ১০ বছর স্থায়ী হবে। আর তিয়ানহে মডিউল হলো এর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। এর দৈর্ঘ্য ১৬.৬ মিটার ও প্রস্থ ৪.২ মিটার। এর মধ্যে মহাকাশচারীদের বসবাসের জন্য কোয়ার্টারসহ জীবন-যাপনে সহায়ক বিভিন্ন প্রযুক্তি রয়েছে।
বেইজিং আশা করছে, আগামী বছর মহাকাশ কেন্দ্রের কাজ শেষ হওয়ার আগে এরকম আরও অন্তত ১০টি মডিউল পাঠাতে সক্ষম হবে তারা। আর এগুলোর মাধ্যমে কক্ষপথে আরও কিছু অতিরিক্ত সরঞ্জামাদি পাঠানো যাবে। এ মহাকাশ কেন্দ্রটি ৩৪০-৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে।
এর আগেও চীন দ্য তিয়ানগং-১ ও তিয়ানগং-২ নামে দুইটি মহাকাশ কেন্দ্র পাঠিয়েছিল। তবে দুইটি কেন্দ্রই ছিল পরীক্ষামূলক।
বর্তমানে কক্ষপথে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) নামে একটি মহাকাশকেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে সেটি পাঠানো হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত মহাকাশে এটিই একমাত্র স্টেশন যেখানে নভোচারীরা অবস্থান করছে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা ও ইউরোপের সমন্বয়ে এটি গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে আইএসএস-এ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০২৪ সালের পর আইএসএস-এর কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। তারপর হয়তো তিয়ানগং-ই হয়ে যাবে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপিত একমাত্র মহাকাশ কেন্দ্র।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...