চট্টগ্রামে নতুন মৃত্যু ৪ : শনাক্ত ১৮৫

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১ মে ২০২১, ১২:৩১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৬০৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১৮৫ জন। নতুন করে ১৮৫ জন শনাক্ত হওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রামে শনাক্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ৯০ জনে ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে ৪০ হাজার ১৪৫ জন নগরের ও ৯ হাজার ৯৪৫ জন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রামে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২৪ জনে।

শনিবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গতকাল শুক্রবার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব ও চট্টগ্রামের ৭টি ল্যাবে ১ হাজার ৬০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ১৮৫ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে নগরের ১৩০ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ৫৫ জন।

জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৫ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৪৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫২ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৩৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ২১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪০ জন, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ১০৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭ জন, শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ২০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২২ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ জন ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। তবে এদিন মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাব ও জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ল্যাবে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের ১৩ মাসে এসে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুতে দুটোতেই রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম। গত বছরের ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এ বছরের শুধু এপ্রিল মাসে শনাক্ত রোগী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯১৮ একই সাথে মৃত্যু হয়েছে ১৩১ জনের। এ বছরের প্রথম তিনমাসে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৬৫৭ জন আর মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। এতে বোঝায় যায়, করোনা সংক্রমণ কত দ্রুত বাড়ছে।

করোনা সংক্রমণ তীব্র হওয়ার পেছনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণকে দায়ী করেছেন। মানুষের স্বাস্থ্য বিধি না মানা, অলিগলিতে আড্ডা ও মানুষের অযথা ঘোরাঘুরি, সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়েছিলো বছরের প্রথম তিনমাস লাগামহীনভাবে, এছাড়া গরমে সংক্রমণ বাড়ে ও নতুন ভ্যারিয়েন্ট।

চিকিৎসকরা বলছেন, মানুষের মধ্যে যদি সচেতনতা না বাড়ে, তাহলে সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে মৃত্যুও লাগামহীনভাবে বাড়বে। পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। করোনা সংক্রমণ রোধে হাট-বাজারে সবাইকে মাস্ক পরানো নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক পরলে ৯০ শতাংশ সংক্রমণ কমবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...