দ্বিগুণ হারে গলছে উত্তর মেরুর বরফ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২১, ৩:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ক্রমাগত পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়িয়ে চলেছে গ্রিন-হাউস গ্যাসগুলো। এর ফলে প্রকৃতির ওপর পড়ছে নানা ধরনের বিরূপ প্রভাব। এর মাঝে আশঙ্কাজনক একটি দিক হলো, এই বর্ধিত উষ্ণতায় বেড়ে চলছে মেরু অঞ্চলের বরফ গলনের পরিমাণ। বিগত ৩ দশক ধরেই এই নিয়ে চিন্তিত বিজ্ঞানীরা।
তবে এবার নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। উত্তর মেরুর আর্কটিক মহাসাগরের বরফ গলনের যে হার বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছিলেন, বাস্তব হার তার প্রায় দ্বিগুণ। এমনকি, এভাবে চলতে থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে আর্কটিকের কিছু অংশে বরফের কোনো আস্তরণ থাকবেই না।
আর এমনটি ঘটলে কেবল বৈশ্বিক তাপমাত্রাই বাড়বে না, বরং এর পাশাপাশি বিশ্বের বহু উপকূলীয় অঞ্চলে চরম আবহাওয়া এবং বন্যার ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।
লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজের অধ্যাপক রবি ম্যালেট তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে স্যাটেলাইট ডেটা এবং নতুন কম্পিউটার মডিউলেশনের সাহায্যে এই গবেষণা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর মেরুর খুব সামান্য অংশ বাদ দিলে কোথাও আর বরফের ওপর তুষারের স্তর জমা হয় না। আর কঠিন বরফের স্তরও ক্রমশ পাতলা হয়ে আসছে। অনেক জায়গায় উন্মুক্ত হয়ে গেছে সমুদ্রপৃষ্ঠ। এখনই তার সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশ না পেলেও ম্যালেট জানিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চলে বরফ গলার হার আগের ধারণার চেয়ে ৭০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ দ্রুত হচেছ।
উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু পৃথিবীর উষ্ণতা নিয়ামক নামে পরিচিত। তার কারণ এই দুই অংশে বরফের স্তর। বরফের উজ্জ্বল পৃষ্ঠ হতে ৫০ থেকে ৭০ ভাগ সূর্যালোক প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে ফিরে যায়। কিন্তু যখন সাগরের বরফ গলে যায়, তখন এটি অন্ধকার সমুদ্র পৃষ্ঠে পরিণত হয়। এই অন্ধকার সমুদ্রপৃষ্ঠ সূর্যালোকের ৯০ ভাগ শোষণ করে নেয়। এভাবে আরও যত বেশি আলো সমুদ্রে শোষিত হবে, তাতে তত বেশি বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়বে।
অর্থাৎ এই বরফের স্তর হারিয়ে গেলে সারা পৃথিবীর উষ্ণতাই বাড়তে থাকবে। আর মেরু অঞ্চলের এস্কিমোদের মতো উপজাতিরা তো সমস্যায় পড়বেনই। তবে এর মধ্যে আরও বেশি আশঙ্কার কারণ এই যে, বরফ গলনের ফলে মেরু অঞ্চলে খুলে যেতে চলেছে বাণিজ্যিক উপযোগিতা। একদিকে অতি সহজে এই রুট ধরে মালবাহী জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে, আবার খনিজ তেল ও গ্যাসেরও এক বিরাট ভাণ্ডার উন্মুক্ত হয়ে যাবে। বাণিজ্যিক মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা এই পথ নিলে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে মেরু অঞ্চলের পরিবেশ স্বাস্থ্য। তাই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। যা করতে হবে তা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই, এমনটাই মনে করছেন ম্যালেট। তাঁদের নতুন গবেষণার ফল ক্রাইস্ফিয়ার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...