যে আমের কেজি ৬ হাজার টাকা

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২১, ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকা। এই এলাকায় উঁচু পাহাড়ের ঢালুতে থোকায় থোকায় ঝুলছে রঙিন আম। একটি বা দুই-টি নয়, এরকম ১২০টি গাছে ঝুলছে রঙিন আম। বাহারি এ আম যেন সবুজ পাহাড়কেই রঙিন করে তুলেছে।
বলা হচ্ছে ‘মিয়াজাকি’ বা ‘রেড ম্যাংগো’ বা ‘এগ অব দ্য সান’ এর কথা, যা বাংলাদেশে ‘সূর্যডিম আম’ নামেই পরিচিত। খাগড়াছড়ির পাহাড়ে বিশ্বের সেরা ও দামি আমের খেতাব পাওয়া মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আমের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরী। পাহাড়ি ঢালু জমিতে মিয়াজাকি আমের সাফল্যে বিস্মিত কৃষি বিভাগ।
মহালছড়ির ধুমনিঘাট এলাকায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে ‘ক্রা এএ এগ্রো ফার্ম’ গড়ে তুলেছেন কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরী। ওই ফার্মে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে শখের বসেই মিয়াজাকি আমের চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে অনেকেই রঙিন আম দেখতে ভিড় করছেন এই ফার্মে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২শ ফুট উঁচুতে ক্রা এএ এগ্রো ফার্ম। পাহাড়ের ঢালুতে সারি সারি মিয়াজাকি জাতের আমের গাছ। প্রতিটি গাছের বয়স তিন থেকে চার বছর। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে মিয়াজিক বা সূর্যডিম আম। প্রতিটি গাছে ৩০-৪০টি পর্যন্ত আম দেখা গেছে।
প্রতিটি আমের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম। পুরো আম লাল রঙে মোড়ানো। রঙিন এই আম দেখতে অনেকেই বাগানে ভিড় করছেন।
কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরী জানান, তার বাগানে প্রায় ৬০ প্রজাতির আম রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনিই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের আমের চাষ শুরু করেন।
চার বছর আগে দেশের বাইরে থেকে চারা সংগ্রহ করে মিয়াজাকি আমের চাষাবাদ শুরু করার কথা জানিয়ে হ্ল্যাশিমং চৌধুরী বলেন, বিদেশি প্রজাতি হওয়ায় আমরা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে আমটি চাষাবাদ করি। রোপণের চার বছর পরে ভালো ফলনও পেয়েছি। আমটির রঙ অত্যন্ত সুন্দর। দাম বেশি হওয়ায় এটি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয় না। দেশের বিভিন্ন সুপারশপে এটি পাওয়া যাবে। অনেক শৌখিন ক্রেতাও আমটি বাগান থেকে কিনে নিয়ে যান। পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা এটি চাষ করে লাভবান হতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘সূর্যডিম বা মিয়াজাকি’ হলো জাপানিজ আম। বিশ্ব বাজারে এটি ‘রেড ম্যাংগো’ নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। জাপানিজ এ আমটির স্বাদ অন্য আমের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি। আমটি খেতে খুবই মিষ্টি। এর গড় ওজন প্রায় ৭০০ গ্রামের মতো। বিশ্ব বাজারে এর দাম প্রায় ৭০ ডলার বা ৬ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি ১০ গ্রাম আমের দাম এক ডলারের মতো। অনেক কৃষক নতুন এ জাতের আমচাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
প্রচলিত জাতের পাশাপাশি বিদেশি জাতের আম চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন জানিয়ে খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, খাগড়াছড়িতে প্রথমবারের মতো মিয়াজাকি জাতের আমের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। পাহাড়ের আবহাওয়া এ আম চাষাবাদ উপযোগী। হর্টিকালচারের সেন্টার মাধ্যমে এটি কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ বলেন, কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরীর হাত ধরে খাগড়াছড়িতে বিশ্বের এই সেরা ও দামি এ আমের আবাদ শুরু হয়েছে। রঙ এবং আকারের কারণে এটিকে ‘সূর্যের ডিম’ বলা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়ায় মিয়াজাকির ফলন অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন হওয়ায় এ আম দেখতে বেশ সুন্দর। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে আমাদের দেশের কৃষক লাভবান হতে পারবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...