চাকরিতে বয়সসীমা ‘৩৫’ না করলে লাগাতার কর্মসূচি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২১, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

মহামারীর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা। কিন্তু এই মহামারীতে বয়স বাড়ার গতি থেমে থাকেনি। ফলে মহামারী যত দীর্ঘ হচ্ছে, চাকরি নিয়ে ততই শঙ্কা বাড়ছে চাকরিপ্রত্যাশীদের।

চাকরিপ্রত্যাশীদের দাবি, করোনাভাইরাসের কারণে আড়াই বছরের সেশনজটের বোঝা পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। সেশনজটের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত যেন নষ্ট হয়ে না যায়, সেজন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবি জানিয়েছেন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’ নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি প্লাটফর্ম।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক জুবায়ের আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তারা সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ২০ জুন পর্যন্ত সময় বেধে দেন।

তারা বলেন, ‘সরকার যদি ২০ জুনের মধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ২৫ জুন বিকেল থেকে শাহবাগ চত্তরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করবো। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’

সংগঠনের সমন্বয়ক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার বলেন, ‘চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০- এই গণ্ডি, দেয়াল, সীমানা-প্রাচীর অবরুদ্ধ করে রেখেছে বাংলার লক্ষ-কোটি ছাত্র সমাজকে। তারা আজ নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ছাত্রসমাজ আজ দিশেহারা কর্মহীনতার মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটপট করছে।’

লিখিত বক্তব্যে জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘১৬ বছরে এসএসসি, ১৮ বছর চার মাসে এইচএসসি, ১৯ বছরে অনার্স প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হলে ২৩ বছরের পূর্বে অনার্স সম্পূর্ণ করা কোনোভাবেই সম্ভব না। অথচ প্রথম শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের শুরুর সময় ২১ বছর। এই অকার্যকর আইন প্রয়োগ করে ছাত্রসমাজকে ঠকানো হচ্ছে।’

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘মঞ্জুরি কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সাল পর্যন্ত গড় সেশনজট ছিল ৩ বছর ২ দিন। ২০১৬ পর থেকে সেশনজট কমে আসলেও বর্তমানে মহামারীর কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীরা প্রায় আড়াই বছরের সেশনজটে পড়েছে, এখনও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা প্রায় অনিশ্চিত। সরকার লক্ষ লক্ষ ছাত্রের জীবন থেকে অমূল্য সময় নষ্ট করেছে। এই সময় নষ্টের ক্ষতিপূরণ রাষ্ট্রকে দিতে হবে।’

তারা আরও বলেন, ‘মহামারীকালে শিক্ষার্থীদের এই ঘারতি পুষিয়ে দিতে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই। এছাড়া উন্নত বিশ্বে মেধা, যোগ্যাতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ফিটনেসকে মূল্যায়ন করেছে, বয়সকে নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির মুখপাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন, সংগঠনের সমন্বয়ক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. নাসিম প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...