সেই ‘বুল্লি বাই’ অ্যাপের মূল হোতা গ্রেপ্তার

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২২, ৫:১৪ অপরাহ্ণ

ভারতে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ১০০ জনের বেশি মুসলমান নারীর ছবি আপলোড দিয়ে তাদের ‘বিক্রি’ করা হচ্ছে- এমন বিজ্ঞাপন দেয়ার ঘটনায় মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভারতের আসাম রাজ্য থেকে ওই অ্যাপের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। খবর এনডিটিভির।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার কে পি এস মলহোত্রা বলেন, ‘মূল অপারেটর, গিটহাবের বুল্লি বাই অ্যাপের প্রস্তুতকারী ও অ্যাপের মূল টুইটার অ্যাকাউন্টধারী নিরাজ বিষ্ণুকে আসাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল আইএফএসও।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২১ বছরের বিষ্ণু ভোপালভিত্তিক একটি প্রকৌশল বিষয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাকে আসামে তার নিজ শহর ঝরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দিল্লিতে নেয়া হচ্ছে।

এর আগে ভারতের দুটি রাজ্যের পুলিশ ওই অ্যাপের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

অ্যাপটির ডেভেলপার এবং যিনি এর টুইটার হ্যান্ডেলে ছবি ও বিষয়বস্তু শেয়ারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

বুল্লি বাই নামের ওই অ্যাপটি একটি ওপেন সোর্স অ্যাপ, যা গিটহাব নামে একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অপারেট করত। মামলা হওয়ার পর গিটহাব কর্তৃপক্ষ এর কন্টেন্ট নামিয়ে দিয়েছে।

গত কয়েক মাসের মধ্যে ভারতে মুসলমান নারীদের অনলাইনে ‘নিলাম’ বা ‘বিক্রি’র মত হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

জুলাই মাসে, ‘সুল্লি ডিলস’ নামে একটি অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট ৮০ জনেরও বেশি মুসলমান নারীর প্রোফাইল তৈরি করে।

তাতে মূলত অনলাইনে ওই নারীদের নিজেদের আপলোড করা ছবি ব্যবহার করা হয় এবং বলা হয়- তারা ‘ডিলস অব দ্য ডে’। ব্যবসায়িক পরিভাষায় কোন একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত দামে সেরা অফারকে ‘ডিলস অব দ্য ডে’ বলে।

বুল্লি বাই কিংবা সুল্লি ডিলস কোন ক্ষেত্রেই, সত্যিকার অর্থে বেচাকেনা ছিল না। কিন্তু এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান নারীদের ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করে তাদের হেয় করা এবং অপমান করা।

সুল্লি শব্দটি একটি মানহানিকর হিন্দি স্ল্যাং, যা ভারতের ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো মুসলমান নারীদের ট্রল করার জন্য ব্যবহার করে। বুল্লি শব্দের অর্থ নিন্দনীয়।

ভারতীয় সাংবাদিক ইসমত আরা, যার নাম এবং ছবি দেয়া হয়েছে বুল্লি বাই অ্যাপে, দিল্লি পুলিশের কাছে তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে যৌন হয়রানি এবং ধর্মের কারণে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুল্লি বাই’য়ের তালিকায় থাকা আরেকজন নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বাইয়ের পুলিশ বেশ কয়েকটি টুইটার হ্যান্ডেল এবং অ্যাপের ডেভেলপারদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছে।

ওই অ্যাপে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, একজন পুরস্কার বিজয়ী বলিউড অভিনেতা এবং এমনকি ২০১৬ সালে নিখোঁজ হওয়া একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মায়ের নাম ও ছবি দেয়া হয়েছিল।

যাদের ছবি আপলোড করা হয়েছে অ্যাপে, তাদের অনেকেই টুইট করেছেন যে তারা ‘মানসিক আঘাত’ পেয়েছেন এবং প্রচণ্ড ‘আতঙ্কিত’ বোধ করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই সম্পর্কিত আরও খবর...