আধিপত্যের জেরে চট্টগ্রামে দু’জন খুন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২২, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

রাজনৈতিক আধিপত্যের জেরে চট্টগ্রামে দু’জন খুন হয়েছেন। এরমধ্যে একজন চট্টগ্রাম মহানগর জামালখান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আসকার বিন তারেক ইভান (১৭)। অপরজন পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছোট ভাই মোহাম্মদ সোহেল (৩৬)।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) দিনগত রাত ১০টার দিকে খুনের ঘটনা দুটি ঘটে। সিএমপির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির ও পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার খুনের ঘটনা দুটির তথ্য নিশ্চিত করেন।

পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছোট ভাই মুহাম্মদ সোহেল ও তার তিন সহপাঠিকে শুক্রবার দিনগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বুধপুরা বাজার এলাকায় ছুরিকাঘাত করে শরিফ নামক এক ঘাতক।

স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোহেলের সহপাঠী মো. সাজ্জাদ (২০), সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও জয়নাল আবেদীন (৩৪) চমেক হাসপাতালের ২৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত সোহেল বুধপুরা এলাকার মৃত এজহার মিয়ার ছোট ছেলে। সোহেল কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকার ফসিল গ্যাস পা¤েপর ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। নিহত সোহেলের বড় ভাই আবুল কাশেম ষষ্ঠবারের মতো কাশিয়াইশ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার দিনগত রাতে বুধপুরা বাজার জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের সাথে ঘাতক শরিফের বাকবিতÐা হয়। এরপর সোহেল প্রতিবাদ করলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে যাওয়া তিন সহপাঠীকেও এসময় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘাতককে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান চালাচ্ছে।

এদিকে সিনিয়র-জুনিয়রের নামে আধিপত্য বিস্তারের জেরে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখানের আজাদী গলির পেছনে জামালখান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক স¤পাদক আসকার বিন তারেক ইভানকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির।

তিনি বলেন, নিহত ইভানের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ওসি জানান, নগরীর রহমতগঞ্জ ও আজাদী গলি এলাকায় সিনিয়র-জুনিয়র ইস্যুতে দুই গ্রুপ দুই-তিনদিন আগে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার ইফতারের আগ থেকেই এই দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় শোডাউন দিতে দেখা যায়। পরে রাতে জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশের অনুসারীরা একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা সাব্বির সাদিকের অনুসারী ইভানের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে সাব্বির সাদিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে শৈবাল দাশের বড় ভাই নগর ছাত্রলীগের সদস্য সৈকত দাশ বলেন, ছোট ছোট ছেলেরা নিজেদের মধ্যকার ঝামেলাকে এত বড় করেছে। দুই দিন আগে থেকেই তাদের ঝামেলা চলছিল, আজকেও সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু কোনো পক্ষই তা মানেনি। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে দুই গ্রুপ আবার সংঘর্ষে জড়ায় এবং সাব্বির গ্রুপের একজন নিহত হয়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...