চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২২, ২:৩১ অপরাহ্ণ

আজ ২৫ এপ্রিল। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটিকে স্মরণীয় করতে নানা আয়োজনে পালন করা হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিবস।

১৮৮৭ সালে পোর্ট কমিশনার্স অ্যাক্ট প্রণয়ন করে ব্রিটিশ সরকার। ১৮৮৮ সালের ২৫ এপ্রিল তা কার্যকর হয়। তখন থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর। এরপর থেকে প্রতি বছরের ২৫ এপ্রিল বন্দর দিবস উদযাপন করা হয়। এ উদযাপনকে ঘিরে থাকে মেজবান, আলোচনা, শোভাযাত্রাসহ বর্ণিল আয়োজন।

জানা গেছে, ইংরেজ শাসনের প্রথম দিকে বার্ষিক এক টাকা সেলামির বিনিময়ে নিজ ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীতে কাঠের জেটি নির্মাণ করেন ইংরেজ ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা। এরপর ১৮৬০ সালে প্রথম দুটি অস্থায়ী জেটি নির্মিত হয়। ১৮৭৭ সালে গঠিত হয় চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার। ১৮৮৮ সালে বন্দরে দুটি মুরিং জেটি নির্মিত হয়।

একই বছরের ২৫ এপ্রিল পোর্ট কমিশনার কার্যকর হয়। পরে ১৮৯৯-১৯১০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার ও আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে যৌথভাবে চারটি স্থায়ী জেটি নির্মাণ করে। ১৯১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে রেলওয়ের সংযোগ হয়।

১৯২৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরকে মেজর পোর্ট ঘোষণা করা হয়। ১৯৬০ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনারকে চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্টে পরিণত করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্টকে চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটিতে পরিণত করা হয়। ১৯৭৭ সালে শুরু হয় বন্দরের কনটেইনার পরিবহন কার্যক্রম।

জানা যায়, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৫ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড তৈরি করায় কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৫৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে। পোর্ট লিমিট ৭ নটিক্যাল মাইল থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইলে উন্নীত করা হয়েছে। পোর্ট লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে কাণ্ডারি ৬ ও ১২ নামের ২টি টাগবোট, ২টি মুরিং লঞ্চ, ২টি সাইট স্ক্যান সোনার, ২টি ইকো সাউন্ডার, ১টি সমুদ্রগামী হারবার টাগবোট সংগ্রহ করা হয়েছে। গত এক দশকে শিপ টু শোর কি গ্যান্ট্রি ক্রেন, মোবাইল হারবার ক্রেন, রাবার টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ বিভিন্ন ধরনের ৩৯০টি কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২১ সালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনার), প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। জেনারেল কার্গো ওঠানামা হয়েছে ১১ কোটি ৬৬ লাখ টন, প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৩ শতাংশ। জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ২০৯টি, প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ। এ অর্জন বন্দরের ৩০ বছর মেয়াদী প্রক্ষেপণ ছাড়িয়ে গেছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর ফুল অটোমেটেড বন্দরে পরিণত হয়েছে। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের কম্পিউটারাইজড কন্টেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিটিএমএস) উদ্বোধনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করে। বর্তমানে সিটিএমএসকে আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) করা হয়েছে। টায়ার-২ সমমানের একটি ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এ ডাটা সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের আধুনিক বন্দরগুলোর ন্যায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে অপারেশনাল অটোমেশন সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।

বন্দর সূত্র জানায়, ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। যেটাতে ৪ হাজার ৫০০ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হবে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) ৬০০ মিটার জেটিতে একসঙ্গে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ডলফিন জেটিতে একটি তেলবাহী জাহাজ ভিড়ানো যাবে। ২০২২ সালের জুলাই মাস নাগাদ পিসিটিতে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছে। কোভিড অতিমারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও শ্রীলংকার অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদি বিশ্ব অর্থনীতির প্রত্যাশিত গতিকে মন্থর করেছে।

অন্যদিকে, কোভিড-১৯ অতিমারির প্রকোপে বাংলাদেশের অর্থনীতির ঊর্ধ্বগতি বাঁধাগ্রস্থ হলেও দৃঢ়তার সাথে বিশ্ব ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, এর পূর্ববর্তী অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগই সামাল দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। আজকের বন্দর বিগত দিনের চেয়ে আরও বেশি কর্মক্ষম এবং আগামীর বন্দর হতে যাচ্ছে আরও আকর্ষণীয়, সমৃদ্ধ ও কার্যকর।

এদিকে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম বন্দর আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমি আশা করি, চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন এবং সরকারের রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম বন্দর আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...