সব মামলায় জামিন, সিসিইউতে থেকেই মুক্তি পাবেন সম্রাট

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১১ মে ২০২২, ২:১৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট দুদকের মামলাসহ তার বিরুদ্ধে করা সব মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএসএমইউ) চিকিৎসাধীন। এখান থেকেই জামিনে মুক্তি পাবেন তিনি।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

সম্রাটের জামিনের বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সম্রাট শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিএসএসএমইউর ডি-ব্লকের সিসিইউতে আছেন। সেখানে পুলিশের পাশাপাশি কারারক্ষী রয়েছে। সেখান থেকেই মুক্ত হবেন তিনি।

বিএসএমএমইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষী সূত্র জানায়, সম্রাটের ৪টি মামলার মধ্যে ৩টির জামিনের নথিপত্র কারাগারে এসেছে। সর্বশেষ জামিনের কাগজে এলে আমরা তাকে পুরোপুরিভাবে চিকিৎসকের হাতে হস্তান্তর করব। চিকিৎসক তাকে রিলিজ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সম্রাটের আইনজীবী মাহবুবুল আলম দুলাল গণমাধ্যমকে জানান, তার বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচারের মামলায় ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন তিনি। কারাগারে ছিলেন দুদকের মামলায়। এ মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার কারামুক্ত হতে আর কোনো বাধা নেই।

সম্রাটের পক্ষের অপর আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান জানান, তিন শর্তে দুদকের মামলায় সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। অসুস্থতা বিবেচনায়, বিদেশে না যাওয়া ও প্রতিটি ধার্য তারিখে হাজিরার শর্তে জামিন দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। পরে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

দুদকের মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সম্রাট বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত এই বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন বলেও অভিযোগ আছে। অনেক সময় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন এবং বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

এছাড়া তার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে এক হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। পরে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...