বিমানের টিকিট বিক্রির পর রিফান্ড করে অর্থ হাতিয়ে নিতো মাহবুব

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১২ মে ২০২২, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

ব্যক্তি বিশেষ বা সাব-এজেন্টের মাধ্যমে বেশকিছু ট্রাভেলিং অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট আগাম বিক্রি করে। যাত্রীরা ই-টিকিট বুঝে নিয়ে পাসপোর্টের ভেতরে রেখে নির্দিষ্ট দিনে বিমান বন্দরে হাজির হয়ে ই-টিকিট ও পাসপোর্ট দেয়ার পর এয়ারলাইন্সের লোকেরা জানায়, ই-টিকিটের বুকিংটা ঠিক ছিল, কিন্তু বুকিং দেয়ার এক বা দুই দিন পরে পেমেন্ট করা টাকা রিফান্ড করে তুলে নেয়ায় টিকিট বাতিল হয়ে গেছে।

টিকিট বিক্রির পর যাত্রীকে না জানিয়ে টিকিট রিফান্ড করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এমন একজন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। গ্রেপ্তারের নাম মাহবুবুর উর রশিদ। বুধবার রাত ১০ টায় রাজধানীর কলাবাগানের ২৪ গ্রীন রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন এয়ালাইন্সের ৮১টি ভুয়া টিকেট, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন, ২টি কম্পিউটার, ১টি কালো রঙয়ের জীপগাড়ি, ১২ টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও একটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বেশ কিছু ট্রাভেলিং অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকেট আগাম বিক্রি করছে। কিন্তু যাত্রীরা বিমানবন্দরে গিয়ে বিদেশ যেতে না পেরে প্রতারিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।

মাহবুবের প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে হাফিজ আক্তার বলেন, প্রতারক মাহবুব বিভিন্ন দেশে গমনাগমন, ওমরাহ পালন, সিঙ্গেল টিকেট, আপ-ডাউন টিকেট বিভিন্ন বিষয়ের টিকেট ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার করে থাকে। কোন বিদেশ যাত্রীর টিকেট প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পাসপোর্টের ছবি নেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশি নাগরিক সাদের মাধ্যমে বেশ কিছু এজেন্সির সহায়তায় টিকেট সংগ্রহ করে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করে। কিন্তু মাহবুব যাত্রার আগেই সামান্য জরিমানা দিয়ে টিকেট রিফান্ড করে নেয়।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ফ্লাইটের দিন মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা স্টাডি এডমিশন বা পবিত্র ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রীরা টিকেট ইনভ্যালিড দেখতে পান। তখন যেন ওইসব যাত্রীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা হয়।

ডিবি প্রধান বলেন, পরবর্তী সময়ে যাত্রীরা আবার তার সাথে কথা বলে আরো অর্থের বিনিময়ে পুনরায় টিকেট সংগ্রহ করেন। আবার ৫০ হাজার অথবা এক লাখ টাকা ফি নিয়ে একই রকম টিকিট দেয়। অধিকাংশ সময়ই তারা ভুয়া টিকিট দেয়। আবারও তারা একইভাবে প্রতারিত হন। যাত্রীরা আবার যোগাযোগ করলে মাহবুব মোবাইল বন্ধ করে অফিস পরিবর্তন করে ফেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিবি প্রধান বলেন, মাহবুব এর আগেও ২০১৫ সালে প্যান্টেট ওভারসিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠাতে গিয়ে ডিএমপির মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি থানায় পৃথক মানব পাচার মামলার আসামি হন। এরপর থেকে ঢাকার একাধিক স্থানে এমকিউ ট্রেড, এমকিউ ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস কনসালটেন্সি নামে বিভিন্ন অফিস পরিবর্তন করে এ প্রতারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে ডিএমপির ভাটারা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

জনসাধারণকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিদেশ যাত্রার টিকেট সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশন ( ইএটিএ) বা Association of Travel Agents of Bangladesh- ATAB এর অধিভুক্ত এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করার জন্য আহ্বান জানান ডিবি’র এ কর্মকর্তা।

ভ্রমণের ন্যূনতম দুইদিন আগে টিকিট সঠিক আছে কিনা তা যাচাই করার পরামর্শ প্রদান করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...