পিকে হালদারের অর্থ পাচার নেটওয়ার্ক ভারতে, বিপুল সম্পত্তির সন্ধান

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২২, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার ও তার সহযোগী সুকুমার মৃধার অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক ছড়িয়েছে কলকাতায়ও।

পলাতক এই পাচারকারীর অবৈধ সম্পত্তির খোঁজ পেয়ে কলকাতার মোট ৯টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)।

জানা গেছে, হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অবৈধ টাকায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে পিকে’র বিরুদ্ধে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া অশোকনগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল পিকে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা। এদিন আর্থিক দুর্নীতির খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উঠে আসে প্রকৃত রহস্য।

পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মামাতো ভাই সুকুমার মৃধার জামাই সঞ্জীব হাওলাদার শুক্রবার (১৩ মে) গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় দু’বছর আগে শেষবার সুকুমার মৃধা অশোকনগরের এই বাড়িতে এসেছিলেন। তবে সুকুমার মৃধার জামাই হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এদিন সমস্ত সম্পর্ক এড়িয়ে যান সঞ্জীব।

ওই অঞ্চলে পিকে হালদারের নবজীবন পল্লীতে সুবিশাল বিলাসবহুল বাগানবাড়ি আছে। ঠিক তার পাশেই আছে সুকুমার মৃধার আরেক বিলাসবহুল বাগান বাড়ি। সুকুমার একজন মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে সেখানে পরিচিত হলেও তার আর্থিক সঙ্গতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সঞ্জীব হাওলাদার নিজেও বাংলাদেশী নাগরিক। তিনি যে বাড়িতে থাকছিলেন সেটি মূলত পিকে হালদারের ভাই এনআরবি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত প্রীতিশ কুমার হালদারের। স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রাণেশ হালদার নামে পরিচিত ছিলেন।

সূত্রের খবর, কলকাতা ছাড়াও দিল্লী, মুম্বাই এবং ভারতের অন্যান্য শহরেও পিকে এবং সুকুমার জুটির বিনিয়োগ আছে বলে অনুমান করছে ইডি। আপাতত পিকে এবং সুকুমার- দুই পরিবারকে জেরা করে সেই সম্পত্তির হদিস খুঁজছে ভারতের অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় এই সংস্থা।

এছাড়া অশোকনগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকা, কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অভিজাত এলাকায় একাধিক বাড়ি ও অফিস রয়েছে এই যুগলের।

কলকাতায় যেভাবে এই জুটির বেআইনি সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি- তাতে বলা যায়, এনআরবি গ্লোবাল কাণ্ডে পাচারের বড় টাকার হদিসই মিলছে। তবে এই সম্পত্তি ক্রয়ের টাকা কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরবে সেটি এখন দেখার বিষয়।

এদিকে সুকুমার মৃধার জামাই সঞ্জীব হাওলাদার এদিন সংবাদ মধ্যমের সামনে জানায়, প্রায় দু’বছর আগে শেষবার তার শ্বশুর অর্থাৎ সুকুমার মৃধা অশোকনগরের এই বাড়িতে এসেছিলেন। তবে সুকুমার মৃধার জামাই হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এদিন সমস্ত সম্পর্ক এড়িয়ে যান সঞ্জীব হাওলাদার।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, তিন-চার বছর আগে প্রীতিশ কুমার হালদার তার বাড়িটি সুকুমার মৃধার নামে হস্তান্তর করেন। সেই হস্তান্তরের সব কাগজপত্রই তল্লাশিতে মিলেছে।

স্থানীয় সূত্রে এও জানা গেছে, বাংলাদেশী হয়েও হালদার-মৃধা জুটির ভারতে প্রভাবের অন্যতম বড় কারণ ছিল স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং মন্ত্রীর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা।

এ ছাড়াও ইডি এদিন স্বপন মিত্র নামে আরেকজনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অশোকনগরের একই এলাকার বাসিন্দা স্বপন মিত্রও পাচারকারী পিকে হালদারের টাকা পাচারে অন্যতম হোতা।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, এদিন তার বাড়ি তল্লাশি চালানোর পরে মেলে একাধিক নথি। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আটক করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...