নারী পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেল ১৮৫ যাত্রীর প্রাণ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২২, ১:৩৭ অপরাহ্ণ

ভারতের পাটনা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয় স্পাইসজেটের যাত্রীবাহী বিমান। টেক অফের কিছুক্ষণ পরে নজরে পড়ে, বিমানের ডানায় আগুন।

বিমানবন্দরে খবর দেওয়া হলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলরুম থেকে বিমানটি জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয় বিমানচালকদের।

কিন্তু পাটনার বিমানবন্দর এমন জায়গায় যেখানে রানওয়ের একদিকে গাছের লম্বা সারি, অন্যদিকে রেললাইন। ফলে পাটনার জয়প্রকাশ নারায়ণ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান অবতরণ করানো স্বাভাবিক পরিস্থিতি খুব একটি সহজ নয়। তার উপর এমন জরুরি অবস্থা।

মাঝ আকাশেই ইঞ্জিন থেকে পুরো বিমানে আগুন লাগা নিয়ে শঙ্কায় ছিল সকলে। বিমানের যাত্রী এবং কর্মীদের বেঁচে ফেরা নিয়ে চিন্তিত বিমানকর্মীরা।

এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন স্পাইসজেট বোয়িং ৭৩৭ বিমানের নারী পাইলট ক্যাপ্টেন মনিকা খান্না।

মনিকার সাহস ও ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন ডিজিসিএর কর্মকর্তাসহ বহু বিমান সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ‘ওভারওয়েট ল্যান্ডিং’ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে মনিকা তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন।

মনিকা ২০১৮ সালে স্পাইসজেট বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। চার বছরে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তিনি।কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনো হতে হয়নি তাকে।

বিমান টেক অফের কিছু সময় পর ওই বিমানের ক্রু সদস্যরা মনিকাকে জানান, পাখির ডানার ঝাপটা লেগে বিমানের একটি ইঞ্জিন থেকে আগুনের ফুলকি বেরোচ্ছে।

বিমানের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঝ আকাশে সবকটি ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন মনিকা। তার পর ধীরে ধীরে বিমানটি রানওয়েতে নামিয়ে আনেন। এফও (ফার্স্ট অফিসার) বলপ্রীত সিংহ ভাটিয়ার অবদানও অনস্বীকার্য। অবতরণের সময় মনিকাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছিলেন তিনি।

১৮৫ যাত্রীকে নিরাপদে বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন তিনি। নারী পাইলট হিসাবে তিনি যে দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন, তা প্রশংসনীয়। সূত্র : আনন্দবাজার

এই সম্পর্কিত আরও খবর...