ইংল্যান্ডে রপ্তানি হচ্ছে নওগাঁর আম্রপালি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২২, ১:৪২ অপরাহ্ণ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা থেকে বিদেশে আম রপ্তানি শুরু হয়েছে। রপ্তানিকৃত আমের প্রথম চালানটি যাচ্ছে ইংল্যান্ডে। দেশে আমের জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে নওগাঁ। জেলার বরেন্দ্র এলাকা সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা ও পত্নীতলার আংশিক এলাকা আম্রপালি আমের জন্য বিখ্যাত। আমগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট।

এ বছর জেলার সাপাহার উপজেলার আম্রপালি (বারি আম-৩) জাতের আম ইংল্যান্ডে রপ্তানি করা হচ্ছে। উপজেলার ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’-এর মালিক সোহেল রানা তার নিজেস্ব বাগান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিদেশে আমগুলো রপ্তানি করছেন। মঙ্গলবার (২১ জুন) দুপুরে এই চালান ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যে পাঠানো হবে।

এর আগে সোমবার (২০ জুন) রাত ১০টার দিকে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ এর মাধ্যমে চাষ করা সাপাহারের বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্ক নামের একটি বাগান থেকে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নর্থবেঙ্গল অ্যাগ্রো লিমিটেড এক টন (এক হাজার কেজি) আম্রপালি আম ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রথম চালান রপ্তানির জন্য ঢাকার শ্যামপুরে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে একটি ফ্লাইটে ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে।

বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্কের মালিক তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল অ্যাগ্রো লিমিটেডের মাধ্যমে এক টন আম্রপালি আম যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকার শ্যামপুরে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা করা হবে। ওই পরীক্ষার মাধ্যমে আমে কোনো রোগবালাই বা কীটনাশক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়। এরপর তা বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরের একটি ফ্লাইটে ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে আমার বাগানের আমগুলো।

তিনি আরও বলেন, এ বছরও আমার বাগানে রপ্তানি উপযোগী আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, বারি-৪, গৌড়মতি, কাটিমন জাতের আম চাষ করেছি। গত বছর আমি ৮ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করেছিলাম। এ বছর প্রায় ৫০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির আশা করছি। চলতি সপ্তাহে ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে আরও চার টন আম পাঠানোর চুক্তি আছে বলেও জানান সোহেল।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রাম গ্রামের কৃষক আজিজার রহমানের ছেলে সোহেল রানা। নিম্নমধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে সোহেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন।

কিছুদিন ঢাকায় চাকরি করার পর ২০১৫ সালে নিজ গ্রামের খাড়িপাড়া এলাকায় পৈতৃক ১২ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। নাম দেন ‘রূপগ্রাম এগ্রো ফার্ম’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। মেধা, পরিশ্রম আর অটুট নৈতিক মনোবলের কারণে তিনি বর্তমানে সাপাহারে এখন ১৪০ বিঘা জমিতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, বিদেশে নিরাপদ আম রপ্তানি করার লক্ষ্যে নওগাঁয় ৮০ জন চাষিকে ‘উত্তম কৃষিচর্চার (গ্যাপ)’ মাধ্যমে আম চাষের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু চাষির সঙ্গে রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর চুক্তি হয়েছে। চুক্তিবদ্ধ চাষিরা আম চাষ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সোহেল রানা তাঁর বাগান থেকে বিদেশে আম্রপালি আম পাঠাচ্ছেন। এটি চলতি বছর নওগাঁ থেকে বিদেশে আম রপ্তানির প্রথম চালান।

তিনি আরও বলেন, জেলার ৮০ জন আমচাষি বাগানে ৯০ লাখ আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। এই ব্যবস্থাপনায় চাষ হওয়া অন্তত ১০০ মেট্রিক টন আম চলতি মৌসুমে বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এটি গত বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর বেশি। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ টন। গোপালভোগ, হিমসাগর, আম্রপালি, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো, কাটিমন, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি, মিয়াজিকিসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে। এবার প্রতি কেজি আমের গড় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। সে অনুযায়ী ১ হাজার ৮৪২ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...