সব
সিলেট ব্যুরো অফিস,

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলে প্রভোস্টের কক্ষে বুলবুলের ব্যবহৃত জিনিস পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়
‘আপনাদেরও সন্তান আছে, আপনারাও মায়ের সন্তান। বোঝেনই তো কেমন আছি? আমার ছেলে বেঁচে থাকলে আপনাদের মতো হতো। কিন্তু জীবনে সফল হওয়ার আগেই তারে মাটির নিচে (কবরে) দিয়ে দিছি।’ এসব কথা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাতে নিহত শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদের মা।
রবিবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলে আসেন বুলবুলের মা, ভাই-বোন, মামাসহ পরিবারের সদস্যরা। হলের ২১৮ নং কক্ষে প্রবেশ করে বুলবুলের বিছানাপত্র দেখেন তারা। এ সময় বুলবুল যে বিছানায় ঘুমাতো সেখানে বসে কান্না করতে শুরু করেন তার মা ও বড় বোন।
এরপর হল প্রভোস্টের কক্ষে আসে বুলবুলের পরিবার। এ সময় তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও অন্যান্য জিনিস পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক আমিনা পারভীন, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান খান, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ইশরাত ইবনে ইসমাইল।
এ সময় বুলবুলের মা বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার চাই। আরও ভাল করে তদন্ত হোক। এদের কে পাঠাইছে, কাদের পরিকল্পনায় এটা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হোক। আমি বিনীত অনুরোধ করে সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বুলবুলের বড় বোন সোহাগী আক্তার বলেন, ‘যে তিনজন আসামি ধরা পড়েছে আমরা চাই তাদের রিমান্ডে নেওয়া হোক। রিমান্ডে নিলেই তারা বলবে, কারা তাদের পাঠাইছে। উনাদের মত মানুষ যাদের একজন রাজমিস্ত্রি আর একজন ক্যান্সারের রোগী; কিভাবে তাদের এত সাহস হলো? আমাদের বিশ্বাস এদের পেছনে কারো না কারো হাত আছে। না হলে ছিনতাইকারী এত নির্মমভাবে আমার ভাইকে হত্যা করতে পারে না। আমাদের মনে হয় বুলবুলের উপর কারও ক্ষোভ ছিল। না হলে এভাবে মারতে পারে না।’
উল্লেখ্য, সোমবার (২৫ জুলাই) রাতে এক বান্ধবীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত গাজী-কালুর টিলায় ঘুরতে যান বুলবুল। সেখানে অবস্থানকালে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হন তিনি। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নগরীর জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।