সব
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি,

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জাবেদ আহমদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে আজ শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের সময় বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। এ সময় উত্তেজিত জনতা জাবেদকে উত্তম মাধ্যম দেয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
অভিযুক্ত জাবেদ আহমদ বড়লেখা সদর ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের সুনাম উদ্দিনের ছেলে। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, তবে প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজ চলাকালে জাবেদ আহমদ ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়ে গণপিটুনির শিকার হন অভিযুক্ত জাবেদ আহমদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই মসজিদ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে জাবেদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বড়লেখা থানার এসআই কামাল উদ্দিন বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের ভিত্তিতে জাবেদ আহমদকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর বড়লেখা বাজার এবং আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মুসল্লিরা বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। আমরা এর বিচার চাই।”
তবে জাবেদের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার বাবা সুনাম উদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে কোনো ধর্মীয় বিষয়ে কটূক্তি করেনি। ব্যবসা ও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসিয়েছে। জাবেদ এলাকায় একজন সৎ ব্যবসায়ী ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।”
বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, “ধর্মীয় বিষয়ে উসকানি সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। সবাইকে সংযত থাকতে হবে। প্রশাসন তদন্ত করছে, তাই কেউ যেন গুজব না ছড়ায়।”
বড়লেখা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, “অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”