র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বোধগম্য নয় : প্রধানমন্ত্রী

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১ মে ২০২৩, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমেরিকার পরামর্শেই, কিন্তু র‌্যাবের সৃষ্টি। এ বাহিনীর প্রশিক্ষণ থেকে সবকিছুই আমেরিকার করা। হঠাৎ করে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়।’ যুক্তরাষ্ট্র সফররত শেখ হাসিনা শনিবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন।

র‌্যাবের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকার কী কী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে? ভয়েস অব আমেরিকার এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ নির্মূলসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আমেরিকার পরামর্শেই কিন্তু এই র‌্যাবের সৃষ্টি হয়েছে। র‌্যাবের প্রশিক্ষণ থেকে সবকিছুই আমেরিকার করা। যখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসল, আমরা সবকিছু ঠিকমতোই চালাচ্ছি। তখন আমেরিকা কী কারণে র‌্যাবের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। র‌্যাবের কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিচার হয়। র‌্যাবের কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসি। যেটা অন্য কোনো দেশে নেই, এমনকি আমেরিকাতেও নেই। এই আইনের শাসনটা আমাদের দেশে আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একজন প্রতিমন্ত্রীর মেয়ের জামাই র‌্যাবের সদস্য থাকা অবস্থায় একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল। তাকেও সঙ্গে সঙ্গেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সে শাস্তিও পেয়েছে। বিষয়টিকে আমরা এভাবেই দেখছি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে র‌্যাবের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু, হঠাৎ করে র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে জঙ্গিরা আবার উৎসাহিত হয়ে গেল বলে মনে হয়। এটাই হলো বাস্তবতা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে আইনের শাসন বলবৎ রয়েছে। আমরা সবকিছু আইনের দৃষ্টিতে দেখি। আবার বিনা অপরাধে কেউ যাতে শাস্তি না পায়, এটাও আমরা দেখি।’

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে, বিএনপি ও তার মিত্রদের এই দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওদের সাথে আর বসতে ইচ্ছা করে না, ‘ওদের সাথে বসলে যেন সেই পোড়া মানুষগুলির পোড়া গন্ধটা আমি পাই।’

এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, রোহিঙ্গা ইস্যু, এবং স্মার্ট বাংলাদেশসহ নানা প্রসঙ্গ নিয়ে শেখ হাসিনা খোলামেলা আলোচনা করেন।

পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন ও তা অতিক্রম করে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পঞ্চাশ বছরের অংশীদারিত্বের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন পাশ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই আইন চালু হচ্ছে। বর্তমানে ঐচ্ছিক হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে এটি সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য বাংলাদেশ সরকারের। এ বিষয় নিয়েও সাক্ষাৎকারে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে পার্টনারশিপের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh