সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

কোনো কৌশলেই বিএনপি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে বিএনপির মনোনয়নে টানা দুইবারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন? এমন প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সোমবার মে দিবসে তার সমর্থক নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন ও কিছু বক্তব্যে এমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিলেটে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সহযোগী সংগঠনের শোভাযাত্রার আগে রেজিস্টারি মাঠে এক সমাবেশে আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। তবে সিলেটের প্রেক্ষাপটে আমরা নির্বাচনে যাব। শুধু তাই নয়, কেন সিলেট সিটি করপোরেশনে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে আগামী ২০ মে রেজিস্টারি মাঠে সমাবেশ করে কারণ জানাবেন বলেও জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির এই সদস্য।
এদিকে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণে মহান মে দিবস উপলক্ষে নগরে আরেকটি মিছিল হয়েছে। তবে সেখানে আরিফুলপন্থী বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আরিফুল নিজের জনসমর্থন দেখাতেই পৃথকভাবে শোডাউন করেছেন। তবে তিনি আসলেই নির্বাচন করবেন কিনা, এটা এখনো স্পষ্ট নয়।
সিলেটসহ আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকবে না বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে বরিশাল ও গাজীপুরে বিএনপিতে যুক্তরা মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন। সিলেটে আরিফুল কী করবেন, সে দিকে ছিল অনেকের কৌতূহল।
রোজার মধ্যে যুক্তরাজ্যে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন আরিফ। দেশে ফিরে বলেছিলেন, ঈদের পর তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন। এরপর গত শুক্রবার বলেছিলেন, নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত জনসভা করে কিছু দিনের মধ্যে সবাইকে জানাবেন।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালেই ১১ এপ্রিল তিনি বলেছিলেন, আমার সঙ্গে আমার নেতার (তারেক রহমান) মিটিং হয়েছে। তিনি আমাকে একটা সিগন্যালও দিয়েছেন। সেটা রেড কিংবা সবুজ- সেটা সময়ই বলে দেবে। এরপর ১৬ এপ্রিল দেশে ফিরে ভোট করার বিষয়ে সরাসরি অবস্থান না জানালেও বলেছিলেন, তিনি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ‘মূল্যায়ন’ করবেন।
তবে গত কয়েক দিন ধরে তিনি বলছেন, ভোটে অংশ নেয়ার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে ‘সচেতন ভোটার, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ মুরব্বিদের’ সঙ্গে তিনি আলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এখন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইঙ্গিত দিলেও ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করছেন আরিফ।
সিলেটে দীর্ঘ দিনের কাউন্সিলের পর আরিফ ২০১৩ সালে প্রথমবার মেয়র পদে নির্বাচন করে হারিয়ে দেন তখনকার মেয়র আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে। ২০১৮ সালেও তিনি কামরানকে হারিয়ে মেয়র হন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সিলেটে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে মনোনীত করেছে। তাকে ‘বাইরের’ ব্যক্তি আখ্যায়িত করে ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র আরিফ।
সোমবারের জনসভায় তিনি বলেন, বাইর থেকে এসে কেউ নেতৃত্ব দিয়ে আমাদেরকে তাদের দাস বানাতে পারবেন না। আমরা কার দাস বনতে চাই না; আমাদেরকে রক্তচক্ষু দিয়ে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। মানুষ ফুঁসে উঠেছে, আমাদের মা-বোনরা পর্যন্ত প্রতিবাদের জন্য নেমে আসবেন।
মিছিল চলাকালে আরিফুল হক চৌধুরী হাত উঁচিয়ে রাস্তার দুই পাশের উপস্থিত জনতাসহ পথচারীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানান। তিনি দুই হাত তুলে সবার কাছে দোয়া চাওয়ার ইশারাও দেন। মিছিলে আরিফুলের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহক্ষুদ্রঋণ–বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সদ্যবিদায়ী আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আহমদ খসরু, মহানগর হকার্স দলের সভাপতি নুরুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা বলছেন, মহানগর শ্রমিক দলের উদ্যোগে এই মিছিল বের করা হয়।
মিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে। জাতি যেখানে ইভিএমে ভোট গ্রহণ প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে সিটি নির্বাচন ইভিএমে করার বিষয়টি রহস্যজনক।
আরিফুল হক চৌধুরী ব্যালটে সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, ইভিএম হচ্ছে শুভংকরের ফাঁকি। মানুষ ভোট দেবে এক প্রতীকে, আর ভোট চলে যাবে আরেক প্রতীকে। একটা প্রহসনের নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জনগণ মনে করছে, এটা সাজানো-পাতানো নির্বাচন।
মিছিল ও সমাবেশ শেষে বেলা দুইটার দিকে একটি গণমাধ্যমের পক্ষে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হয়, সিটি নির্বাচন সামনে রেখেই এই মহড়া কিনা। জবাবে তিনি বলেন, এটা বলার সময় এখনো আসেনি। ২০ মে বেলা আড়াইটায় নগরের রেজিস্টারি মাঠে ৪২টি ওয়ার্ডের বাসিন্দা, দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জনসভা করে এ বিষয়ে আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো।