কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে ইসির ফোন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৩, ১:৫৪ অপরাহ্ণ


খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলাকালে সেন্ট জোসেফ স্কুল কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ পেয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবীব।

সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে আগারগাঁও নির্বাচন ভবন থেকে মোবাইল ফোনে ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তার উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের হেয় করবেন না। আমাদের আন্তরিকতার বা স্বচ্ছতার কোনো অভাব নেই।’ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সাংবাদিকরা কেন্দ্রে ঢোকার পরে আপনাকে অবহিত করে- পারমিশন (অনুমতি) না। অবগত করবে আমরা এসেছি। এরপর এই সাংবাদিকরা দুইজন করে একটি ভোট কক্ষে ঢুকতে পারবে। ভোটকক্ষে গিয়ে ভিডিও ফুটেজ নিতে পারবে, দেখতে পারবে এবং বাইরে এসে লাইভ করতে পারবে।’

এ সময় তিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেন।

এর আগে সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সেলে বসে ভোট পর্যবেক্ষণের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আহসান হাবিব বলেন, সিইসিসহ আমরা প্রত্যেকটা সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করছি। সকাল থেকে এতো বেশি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটার উপস্থিতি, যে কল্পনার বাইরে। আমাদের শান্তি এটা যে, নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা ভোটারদের আশ্বস্ত করেছে এবং তাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা মাঠ পর্যায় থেকে রিপোর্ট পাচ্ছি আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষক টিমের কাছ থেকে। বরিশালে আমাদের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গেছেন এবং খুলনায় গেছেন যুগ্ম সচিব মনিরুজ্জামান। তাদের সঙ্গে ১০ জন করে কর্মকর্তারা আছেন। তাদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাকটা পেলাম খুব সুন্দর, সুষ্ঠু এবং অবাধভাবে নির্বাচন হচ্ছে।

আহসান হাবিব বলেন, কোনো প্রকার অসহযোগিতা কারও কাছ থেকে পাইনি। প্রথমত যারা ভোটার, তারা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসেছে। যারা প্রার্থী তারা সহযোগিতা করছে, যেকোনো প্রকার উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি হয় নাই। তৃতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। সবাই মিলে এই পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালনা করছে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে দুই সিটিতে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা প্রতীক), জাতীয় পার্টির (জাপা) শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙ্গল প্রতীক), জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল প্রতীক) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা প্রতীক)। আর টেবিল ঘড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শফিকুর রহমান মুশফিক।

এছাড়া কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন ১৭৭ জন। নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন ভোটার এবং ভোটগ্রহণ হবে ২৮৯ কেন্দ্রের ১৭৩১টি কেন্দ্রে।

এদিকে বরিশাল সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত (নৌকা প্রতীক), জাতয়ী পার্টির (জাপা) প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস (লাঙ্গল প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (হাতপাখা প্রতীক) ও জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চু (গোলাপ ফুল)। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে রয়েছেন কামরুল আহসান রুপন, হাতী প্রতীকে মো. আসাদুজ্জামান ও হরিণ প্রতীকে মো. আলী হোসেন হাওলাদার।

এছাড়া এ সিটিতে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন ১৫৮ জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ১১৬ জন এবং ৪২ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। বরিশাল সিটিতে ভোট প্রদান করবেন দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন ভোটার। ভোটগ্রহণ হবে ১২৬ কেন্দ্রের ৮৯৪টি ভোটকক্ষে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh