সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ


ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক জয়ন্ত কুমারসহ সীমান্তে লাগাতার হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, মোদির বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, দিল্লির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ফেলানি থেকে জয়ন্ত, মোদির হত্যাকাণ্ড’ ইত্যাদি শ্লোগান দেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বর থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে এসে শেষ হয়।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে শিক্ষার্থীরা সীমান্তে লাগাতার হত্যা, সময়ে-অসময়ে বাঁধ খুলে দেশে বন্যা সৃষ্টি ও বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আগ্রাসন রুখে দিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট ও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান বলেন, ‘ফেলানী থেকে শুরু করে সীমান্তে যতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সবগুলোর সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। আর একটি লাশও আমরা সীমান্তে দেখতে চাইনা। বাংলাদেশের নাগরিক একটা মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকবে। এই অন্তবর্তীকালীন সরকারকে আমরা বলতে চাই দেশের মানুষের এই নাগরিকত্ব ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্রজনতা আপনাদের এই জায়গায় বসিয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিগব্রাদার বা ভারত বড় রাষ্ট্র এ বলে আমাদের শহীদদের রক্তের সাথে যেন বেঈমানী না করা হয়।’

ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রোকৌশল বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, ‘আমরা খুনি হাসিনাকে তাড়িয়েছি। সে এখন খুনি মোদির সাথে অবস্থান করছে। খুনি হাসিনাকে দেশের মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশে আমরা ফেলানি হত্যা দেখেছি। কিভাবে একটা দেশের নাগরিককে হত্যা করে কাটাতারে ঝুলিয়ে রাখে। আমরা দেখছি ভারত কিভাবে একের পর এক খুন করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে আমরা স্বর্না দাসের হত্যা দেখেছি। আজ তারা জয়ন্তসহ আরো দুইজনকে হত্যা করেছে। আমরা জনগণ, হাসিনাকে সরিয়ে ড. ইউনুসকে বসিয়েছি। এই সরকারকে অবশ্যই এই ভারতীয় আগ্রাসনের জবাবদিহিতা চাইতে হবে।’

সমাজকর্ম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘স্বর্ণা দাস ও জয়ন্ত তারা দুজনেই নাবালক, এরা তো সন্ত্রাসী না, তাহলে কেনো এদেরকে গুলি করা হলো। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশ নিরস্ত্র, নিরপরাধ মানুষকে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিতে পারে না। যেটা ভারত দীর্ঘদিন ধরে করে যাচ্ছে। এটি একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমরা এই সমাবেশ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, এই নিপীড়নকারী দেশের বিরুদ্ধে যতো দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ভারতের নিপীড়নের যথাযোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রোকৌশল বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh