এ বছরই শুরু ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি ২০২৫, ৪:২২ অপরাহ্ণ

এ বছরই শুরু হচ্ছে ঢাকা নিউইয়র্ক ফ্লাইট। বহুল প্রতীক্ষিত এ ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের অনেক দিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। এ নিয়ে চলছে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশনের তোড়জোড়। ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটির (এফএএ) সঙ্গে এ মাসেই বৈঠকে বসবে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে আগামী এপ্রিলের পর আর কোনো টিকিটের বুকিং নেওয়া হচ্ছে না। রুটটি অলাভজনক বলে বিমান কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন ক্যাটাগরি টু হওয়ায় নিউইয়র্কে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না। এর আগে বেশ কয়েকবার তদন্ত করতে এসেও ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবলয় সংক্রান্ত তথ্যগুলো সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তারা বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশনকে ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত করার অনুমোদন দেয়নি।

এক সময় ডিসি-১০ দিয়ে নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করত বিমান। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ রুটটি ২০০৬ সালের শেষে এক হঠকারী সিদ্ধান্ত বন্ধ করে দেওয়া হলে তা নিয়ে তখন চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তারপর দেড় যুগ ধরে চেষ্টা করেও চালু করা সম্ভব হয়নি নিউইয়র্ক ফ্লাইট। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নিরাপত্তা অডিটের মতো কঠিন বিষয় চাপিয়ে দিতে থাকে বারবার।

সিভিল অ্যাভিয়েশন এফএএর বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও শর্তাদি পূরণ করার পরও কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়নি। সর্বশেষ এর মধ্যে আরও দুটি অডিট শেষ করার ইস্যুতে ঝুলে আছে এ রুটের ভাগ্য। তবে এত কিছুর পরও বিমান আশাবাদী এ বছরের মধ্যেই তা সম্ভব হবে।

এ জন্য গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) সংগে বারবার যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন। তবে নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি নির্ভর করছে সিভিল অ্যাভিয়েশনের বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তার বলয় কতটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়েছে তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিষয়ে ছাড় দিতে নারাজ।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের রানওয়ের ক্যাটাগরি, নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সিভিল অ্যাভিয়েশন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে কাজ করছে। তারা দ্রুতই ইন্সপেকশনে আসবেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের প্রধান নিবার্হী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাফিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রস্তুত। সিভিল অ্যাভিয়েশন ক্যাটাগরি-১ হওয়ার অনুমোদন পেলেই আমরা ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করব। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নেই। আমাদের আধুনিক প্রজন্মের বোয়িং রয়েছে।

সিভিল অ্যাভিয়েশন যেমন কিছু বিষয় মীমাংসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে আমরাও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এ ছাড়া আমাদের কাছে প্রস্তাব রয়েছে যদি সিভিল অ্যাভিয়েশন ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত না করা হয় তাহলেও দ্বিতীয় আরেকটি উন্নত দেশে ইমিগ্রেশন করিয়ে আমরা নিউইয়র্ক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারব। বিমানের নতুন রুট যত বেশি চালু হবে, যত বেশি ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো যাবে ততই লাভজনক হবে। এটাই ব্যবসার পলিসি। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে এগুলো লাগবেই, এ ছাড়া কোড শেয়ারিং মাধ্যমেই বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ারমার্শাল মঞ্জুর কবির ভূঁইয়া বলেন, আমাদের টার্গেট ঢাকা- জেএফকে। কারণ এখানে আমাদের প্রচুর যাত্রী রয়েছে। আমি নিজেই কিছুদিন আগে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নিউইয়র্কে গিয়েছিলাম। এ মাসের ১৪-১৫ তারিখে আমি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে তাদের সঙ্গে অনলাইনে মিটিং করব।

এরপর তারা টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিটিকে পাঠাবে প্রাথমিক ইনভেস্টিগেশনের জন্য। তাদের শর্তগুলো পূরণ করতে পারলে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি আসবে তদন্তে। তারা অনুমোদন দিলেই শুরু হবে ঢাকা-নিইউর্য়ক ফ্লাইট।

সর্বশেষ বিমানের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে, এখন বিমানে রয়েছে ২১টি এয়ারক্রাফট। যদিও বর্তমানে ৭০টি দেশের সঙ্গে এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট রয়েছে। এ অবস্থায় রুট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিমান। এতে প্রথমেই ২০২২ সালের জুলাইতে ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইট চালু করা হয়। চীনের গুয়াংজু, জাপানের নারিতা এবং ভারতের চেন্নাইতে ডানা মেলেছে বিমান।

এ ছাড়া চীনের কুনমিং ফ্লাইট চালু করতে কাজ চলছে। এটাকে বৃদ্ধি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য দরকার নতুন রুটের সন্ধান আর বহরের এয়ারক্রাফটের সংখ্যা বাড়ানো। ফ্লাইটের শিডিউল ঠিক রাখতে হলে এই মুহূর্তে আরও অন্তত গোটা চারেক মাঝারি ও সুপরিসর উড়োজাহাজ দরকার।

এদিকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে সিলেট ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চলছে নানা অস্থিরতা ও ক্ষোভ। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের মানুষের কথা চিন্তা করে ২০২০ সাল থেকে শুরু হয় ঢাকা সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি ফ্লাইট। এতদিন এ রুটে তিনটি ফ্লাইট চললেও, গত অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যায় একটি। বাকি দুটি ফ্লাইট চলছে। অভিযোগ রয়েছে এ বছর এপ্রিলের পর থেকে এই রুটে অনলাইনে টিকিট বুকিং বন্ধ রাখা হয়েছে।

নর্থ ইংল্যান্ডে বসবাসরত ১ লাখ প্রবাসীর যাদের অধিকাংশই সিলেটের। ম্যানচেস্টার-সিলেট সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা পাচ্ছেন বার্মিংহাম, নিউক্যাসল, সান্ডারল্যান্ড, গ্রেটার ম্যানচেস্টার ও পুরো স্কটল্যান্ডের প্রবাসীরা। নির্বিঘ্ন যাত্রার কারণে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই রুট। তবে প্রবাসীদের অভিযোগ, লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও এই রুটে তিনটি ফ্লাইটের মধ্যে সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে একটি।

প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে ফ্লাইট বন্ধ না করে আরও বাড়ানো দরকার। এ বিষয়ে ম্যানচেস্টারের সহকারী হাইকমিশনের কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট চালু রাখতে সরব সিলেটের মানুষও। ফ্লাইট চালু রাখতে হয়েছে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে ম্যানচেস্টারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে একমাত্র বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ গন্তব্যে আগে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হতো। গত অক্টোবর থেকে দুটি ফ্লাইট চলছে। এ পথে অন্য এয়ারলাইন্সে আসতে হলে মাঝে অন্য দেশে ট্রানজিট করতে হয়।

ম্যানচেস্টার শহরে প্রায় আড়াই লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন। সপ্তাহে দুটি ফ্লাইটে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। সে হিসাবে মাসে ২ হাজার জন দেশে আসেন। সরাসরি ফ্লাইট থাকার কারণে প্রবাসীরা নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারেন। যে কোনো মূল্যে এ রুটে ফ্লাইট বাড়ানো দরকার।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাফিকুর রহমান বলেন, ঢাক-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি অলাভজনক বলে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বোর্ড। তিনি বলেন, বিজনেস ক্লাস এখানে খালি থাকে শুধু ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী দিয়ে রুট চালানো সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে, সরাসরি সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে দুটি ও হিথ্রো বিমানবন্দরে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশ বিমান।

সূত্র : আমার দেশ

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh