সব
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি,
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ব্যবসায়ী জাবেদ আহমদের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঐ ব্যবসায়ীর চাচাতো ভাই সালেখ আহমদ নিহত হয়েছেন এবং এক শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার মাইজপাড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাবেদ আহমদ জানান, সকালে হারুনুর রশিদ ও মাশুক আহমদের নেতৃত্বে ২৫–৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নারী, পুরুষ ও শিশুদের বেধড়ক মারধর করে, ঘরে ভাঙচুর চালায় এবং মূল্যবান মালামালসহ ফার্মের গবাদি পশু লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “হামলার সময় আমার কোলে ছিল ছোট মেয়ে আনিসা মাহমুদ মাহা। হারুনুর রশিদ লাঠি দিয়ে আমাকে আঘাত করলে সেটি মেয়ের হাতে লাগে—বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের হাড় ভেঙে যায়।”
জাবেদ আহমদ আরও জানান, হামলাকারীরা বাড়ির নারী ও শিশুদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে তিনি, তাঁর ভাই খালেদ আহমদ এবং ফার্মের কর্মচারীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সন্ত্রাসী মাশুক আহমদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই সালেখ আহমদের মাথায় কোপ দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে আহত সালেখ ও শিশুকন্যা মাহাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালেখ আহমদের মৃত্যু হয়।
জাবেদ আহমদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের ফার্ম থেকে ৮টি গাভী ও বাছুর লুট করে নিয়ে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, “নিহতের পিতা ইসলাম উদ্দিনকে স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী সাইদুল ইসলাম ভয়ভীতি ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা করতে প্ররোচিত করেছে। পুরোনো জমি সংক্রান্ত বিরোধ অনেক আগেই মীমাংসা হয়েছিল। এখন সেটিকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই এ প্রতিবেদককে জানান, জাবেদ আহমদের বাড়িতে হামলার ঘটনা পরিকল্পিত। বড়লেখায় সন্ত্রাসীদের গডফাদার এলাকার প্রভাবশালী সাইদুল ইসলামের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ভয়ে সাইদুলের বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ মুখ খোলে না। সাইদুলই তার প্রভাব খাটিয়ে ইসলাম উদ্দিনকে দিয়ে জাবেদ আহমদের পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়ের করিয়েছে।
বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) প্রভাকর রায় বলেন, “ঘটনার পর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।”
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।