ছুটিতে ভরসা ডিজিটাল ব্যাংকিং

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৫, ৫:২১ অপরাহ্ণ

ঈদের বন্ধে গ্রাহকদের ভরসা রাখতে হচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংকিংর ওপরেই। টানা ৯ দিন দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিকল্প সব সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সারা দেশে মোট এটিএম বুথ রয়েছে ১২ হাজার ৯৪৬টি এবং ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) রয়েছে ৭ হাজার ১২টি। এটিএম বুথে নিয়মিত টাকা জমা করতে হয়। ঈদের সময় সিআরএমগুলোয়ও এটিএমের মতো টাকা জমা করতে হয়।

ইতিমধ্যে বেশ কিছু ব্যাংকের এটিএম অচল দেখা গেছে এবং নিজ গ্রাহক ছাড়া অন্য গ্রাহকদের টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি টাকা তুলতে দিচ্ছে না। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংকগুলো দুই পদ্ধতিতে এটিএম বুথে টাকা জমা করে। শাখার নিকটবর্তী এটিএম বুথগুলোয় শাখার কর্মকর্তারা টাকা জমা করে থাকেন। দূরের এটিএম বুথগুলোয় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে টাকা জমা করা হয়।

দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এটিএম বুথ রয়েছে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের। ব্যাংকটির এটিএম বুথ রয়েছে ৮ হাজার ২৫০টি। এর মধ্যে অনেকগুলো ফাস্ট ট্র্যাকের মধ্যে। সব ব্যাংকের গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলনের জন্য ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে থাকেন। এবারের টানা বন্ধে গ্রাহকের ভোগান্তি এড়াতে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ফাস্ট ট্র্যাকের কর্মীদের অফিস খোলা রাখছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া নিয়েছে আরও বেশ কিছু উদ্যোগ।

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত তাদের ফাস্ট ট্র্যাক খোলা থাকবে। কর্মকর্তারা বুথগুলোয় কাজ করবেন।

পূবালী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটির শাখা ও এটিএম নেটওয়ার্ক নিরবিচ্ছিন্ন আছে। এটিএম বুথ সার্বক্ষণিক চালু রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক বেশির ভাগ এটিএমকে সিআরএমে রূপান্তর করেছে। ব্যাংকটির এটিএম ও সিআরএম রয়েছে ৪৫৮টি। ব্যাংকটির ৮০ শতাংশ এটিএম ও সিআরএম শাখার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয় আর ২০ শতাংশ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে।

সিটি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তাদের এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক টাকা থাকে। ঈদের বন্ধের মধ্যেও ব্যাংকটির কর্মকর্তারা কাজ করবেন। এতে শুধু সিটি ব্যাংক নয়, সব ব্যাংকের কার্ডধারী গ্রাহকেরা উপকৃত হবেন।

এর পাশাপাশি আরও কিছু ব্যাংক ঈদের মধ্যে ডিজিটাল সেবা সব সময় চালু রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অনেক ব্যাংক সেই পথে যায়নি। বিশেষ করে তারল্য ও ব্যবস্থাপনার সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর এটিএম সেবা অচল দেখা গেছে।

তবে ডিজিটাল সেবা দানের ওপর নির্ভর করে গ্রাহক ব্যাংকটির ওপর কতটুকু আস্থা রাখবেন। আধুনিক ও প্রতিযোগীতামূলক ব্যাংকিং ব্যাবস্থায় এগিয়ে থাকার সূচক হিসেবে এই বিষয়টিকে বিবেচনা করা হয় বলে, এই খাত সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh