প্রস্তুত সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর : স্পেনের উদ্দেশে প্রথম কার্গো ফ্লাইটের উড্ডয়ন রোববার

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৫, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ

কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের কার্গো ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। দক্ষ জনবল নিয়োগের পাশাপাশি বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি।

আগামী রোববার সন্ধ্যায় এই টার্মিনাল থেকে স্পেনের উদ্দেশে উড়বে প্রথম কার্গো ফ্লাইট। এই টার্মিনালের মাধ্যমে যুক্ত হলো দেশের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা। তবে এখনই সিলেটের পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

ওসমানী বিমানবন্দরের এই টার্মিনালের প্রাথমিক ধারণক্ষমতা ১০০ টন। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বাজারের জন্য আধুনিক মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইউডিএস) যুক্ত রয়েছে এতে।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর এই প্রথম আরএ-থ্রি প্রটোকল অনুসরণ করে চালু হলো কোনো কার্গো টার্মিনাল। ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ হওয়ায় এটি দেশের রপ্তানি খাতে নতুন বিকল্প হয়ে উঠছে।

তবে এখনই সিলেটের উৎপন্ন পণ্য বিশেষ করে পচনশীল সবজি—এই টার্মিনাল দিয়ে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। এ জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্যাকিং হাউস, যা এখনো সিলেটে গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে দেশের একমাত্র সরকারি প্যাকিং হাউস রয়েছে রাজধানী ঢাকার শ্যামপুরে।

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা দীর্ঘদিনের। তবে এসব দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা প্রটোকলের কারণে এত দিন একমাত্র ভরসা ছিল ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখানেও বর্তমানে অতিরিক্ত চাপ। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প রপ্তানি পয়েন্ট হিসেবে সামনে এসেছে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন কার্গো টার্মিনাল।

২০২২ সালে সিলেট বিমানবন্দরে নির্মাণ করা হয় অত্যাধুনিক কার্গো টার্মিনাল। কিন্তু যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনুমোদিত প্যাকেজিং ব্যবস্থা না থাকায় এর কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। অবশেষে আগামী রোববার চালু হচ্ছে এ টার্মিনাল। ফলে সিলেট অঞ্চলের কৃষিজ ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য, ফুল, হস্তশিল্প, চামড়াজাতসহ বিভিন্ন পণ্য এখন আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি পৌঁছাতে পারবে। এতে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, সিলেট চেম্বারের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এটা। আমরা অতীতে এটা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি এবং চেষ্টা করেছি সিলেট থেকে একটা কার্গো বিমান চালু করার জন্য।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, ‘স্থানীয় কোনো ল্যাব নেই। নেই কোনো প্যাকেজিং সিস্টেম। আমার মনে হচ্ছে, সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করতেছে। এটাকে আমি স্বাগত জানাই। সাথে সাথে সিলেটে একটা প্যাকেজিং সিস্টেম এবং ল্যাবের ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরী।’

প্রথম ধাপে স্পেনে ৬০ মেট্রিক টন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে কার্গো টার্মিনালের যাত্রা শুরু হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ টার্মিনাল রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়াডিং এজেন্ট সুব্রত ধর চৌধুরী পার্থ বলেন, ‘শুধু স্পেন তো নয়, আরও কয়েকটি দেশে পাঠানো যাবে। যেমন এখান থেকে পণ্য পাঠানো যেতে পারে নেদারল্যান্ডস, জার্মানি।’

কার্গো ফ্লাইট উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, সচিব নাসরীন জাহান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া এবং মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh