বড়লেখায় ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হত্যাচেষ্টা, সন্ত্রাসী সাইদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিলেট ব্যুরো অফিস,

  • প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৫, ৬:১৭ অপরাহ্ণ


মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জাবেদ আহমদ নামের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বড়লেখার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাইদুল ইসলাম তার বাহিনীকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য সহযোগিতা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (১৭ আগস্ট) রাতে। ভুক্তভোগী জাবেদ আহমদ বড়লেখা সদর ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের সুনাম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি নিজের চাচাতো ভাই সালেখ আহমদ হত্যা মামলায় জাবেদকে প্রধান আসামি করে সালেখের পিতা ইসলাম উদ্দিন বড়লেখা থানায় মামলা করেন। এর পরদিন রাতে পুলিশ জাবেদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ভাই খালেদ আহমদকে (মামলার ২ নম্বর আসামি) গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে জাবেদ পলাতক ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের সহযোগিতায় সন্ত্রাসী সাইদুল ইসলাম ও তার বাহিনী জাবেদের অবস্থান জানতে পারে। ১৭ আগস্ট রাতে তারা জুড়ী উপজেলার ফুলতলা গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি ঘেরাও করে জাবেদকে হাত-পা-মুখ-চোখ বেঁধে তুলে নেয়। পরে তাকে বড়লেখার বোবারথল পাহাড়ি এলাকার একটি নির্জন স্থানে আটক রেখে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

পরবর্তীতে জাবেদ সাইদুলের বাহিনীর এক সদস্যকে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয় বলে পরিবার জানায়।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী ছাদিকা আক্তার মনি বলেন, আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সাইদুল তার কাছে চাঁদা চাইত—না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছে। হাসপাতালের পাশে থাকা আমাদের জমিটিও জোর করে নিতে চেয়েছিল।

তিনি আরও জানান, আমার স্বামী আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে সাইদুলের লোকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। নির্যাতনের পর ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাণে বাঁচেন।

এলাকার অনেকেই জানান, সাইদুল ইসলাম একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। মাদক সম্রাট সাইদুল বড়লেখা উপজেলার মাফিয়া হিসেবে পরিচিত। চাঁদাবাজি, মারধর, এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় তার নাম বহুবার উঠেছে। কিন্তু প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে কেউ মুখ খোলে না।

বড়লেখা থানার ওসি মাহবুব হোসেন মোল্লা বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি এবং ফোন সংযোগ কেটে দেন।

প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তভোগীর পরিবার।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh