সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

ছাত্র-গণআন্দোলনের মধ্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেশের কোনো পরিবর্তন আসছে না বা ‘কিছুই হচ্ছে না’ বলে যে প্রচার-প্রচারণা রয়েছে তাতে ‘পা না দেওয়ার’ অনুরোধ করেছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করা শক্তিকে ‘হতাশ’ করার জন্য সবসময় এ ধরনের ‘প্রচারণা’ চালানো হয় বলে মন্তব্য করে তিনি।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর সমাবর্তনে বক্তব্য রাখছিলেন পরিবেশ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, যারা সমাজটাকে একভাবে গড়ে তুলেছে নিজেদের স্বার্থে, তারা একটা শক্তিশালী গোষ্ঠী হিসেবে সবসময় পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করা ‘ফোর্সটাকে’ আঘাত করতে থাকে। এবং এই পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করা ‘ফোর্সটাকে’ হতাশ করবার জন্য সবসময় একটা প্রচারণা চালানো হয়, কিছুই হচ্ছে না। কিছুই হল না। তাহলে কি বদলাল না? সকলেই খারাপ? এই নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণায় পা দেবেন না। এই ফাঁদে আমাদের পড়ার কোনো সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও পদায়নের তদবির আসে তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আমরা কেউ বাক্সের বাইরে বের হয়ে চিন্তা করি না, কিন্তু সবাই চাই দেশটা বদলে যাক। সবাই তদবির করি আমাকে এখানে ‘পোস্টিং’ দেন, আমাকে ওখানে ‘পোস্টিং’ দেন। সবাই তদবির করি, আমাকে ‘প্রমোশন’ দেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এরকম আমরা শুনি। কিন্তু আবার আমরা সবাই চাই সবকিছু নিয়মের মধ্যে চলুক। দুটো একসাথে হবে না। যখন আমি পরিবর্তিত দেশ চাই, তখন আমার নিজেকেও পরিবর্তিত হতে হবে।
এ সময় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, আমলাতন্ত্রের প্রক্রিয়া মানতে গিয়ে তা ধীর হচ্ছে।
প্রক্রিয়াগত ধীর গতির উদাহরণ টেনে রিজওয়ানা হাসান বলেন, একটা ‘ফাইল’ সাতজন স্বাক্ষর করে উপরে তুলল, আবার সবাই স্বাক্ষর করে নিচে আনল-এটা কোনো কাজের কথা হল না।
তার মতে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে আমলাতন্ত্রকে ‘ফলাফল ও লক্ষ্য নির্ভর’ হতে হবে।
এটা এখনো আমাদের রাষ্ট্রতন্ত্রে আসেনি’ মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, তো একটা পদ্ধতি যাতে ঠিক করে দিয়ে যেতে পারি সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। যার যার খাতের আইন কানুনগুলো আমরা ঠিক করার চেষ্টা করছি।
কিন্তু আপনি যদি আমাকে বলেন, বায়ূ (বাতাস) এক বছরে ভালো করে দিতে, আমার পক্ষে সম্ভব না। আমরা কাজ শুরু করতে পারব, কিন্তু এই কাজের ফল দেখতে পৃথিবীর সবখানেই অপেক্ষা করতে হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে সমাবর্তন সভাপতি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি স্নাতকদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ডিগ্রি নিয়ে, আর পেশায় একটা ভালো পদ নিয়ে দেশের কাজ করা যায় না। সবচেয়ে বড় জিনিস হল, দেশের মানুষের জন্য দরদ থাকতে হবে। দেশের মানুষের জন্য আবেগ থাকতে হবে। শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকলে চলবে না।
দেশের ইতিহাস তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তোমাদের অবশ্যই একটা স্বপ্ন থাকতে হবে এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আর একটা জিনিস মনে রেখো, আমাদের দেশটা একটা বিশেষ দেশ। আমরা আমাদের ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছি। আমরা আমাদের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। ১৯৫২ সালে আমাদের ভাইয়েরা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। আমরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ জীবন দিয়েছি। তাই তোমাদের এই ইতিহাস মনে রাখতে হবে। এই ইতিহাসের জন্য গর্ববোধ করতে হবে এবং এই দেশ গড়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তোমাদের প্রথম কর্তব্য হল দেশের প্রতি। এই দেশকে একটা ভালো জায়গা করার জন্য তোমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং তোমাদের বাবা-মায়ের কথাও মনে রাখতে হবে।
সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ফারাহনাজ ফিরোজ ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ইউনুছ মিয়া। সেখানে পাঁচ অনুষদ ও ১৪ বিভাগের মোট এক হাজার ৪০৭ জন স্নাতককে সনদ দেওয়া হয়।