সব
নিজস্ব প্রতিবেদক,
ব্রিটেনের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কমিউনিটি নেতা চৌধুরী মঈনুদ্দিন। দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে মানহানির মামলায় তিনি শুধু জিতেনই নন, পেয়েছেন তিন কোটি টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ এবং ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা।
২০২৪ সালের ২০ জুন যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় যুগান্তকারী রায় দেয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট লর্ড রিড পাঁচ সদস্যের বিচারক প্যানেলের পক্ষ থেকে রায় ঘোষণা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, নিজের নাগরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা সরকারের জন্য বিশেষভাবে গুরুতর বিষয় — এবং এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি ছিল না।
২০১৯ সালে ব্রিটিশ হোম অফিসের একটি রিপোর্টে চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে চরমপন্থার সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে ভিত্তি দেখানো হয়। এই প্রতিবেদনের কারণে তিনি ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।
চৌধুরী মঈনুদ্দিন আদালতে দাবি করেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। তিনি ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং ১৯৮৪ সাল থেকে ব্রিটিশ নাগরিক।
ছয় বছর ধরে চলে শুনানি। পুরো সময়ে হোম অফিস কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। অবশেষে ২০২৪ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মত রায়ে জানান—চৌধুরী মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন এবং গুরুতর মানহানি।
রায়ের ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রকাশ করে এবং হোম অফিস তাদের ওয়েবসাইটে ক্ষমাপত্র প্রকাশ করে। একইসঙ্গে চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে দেয়া হয় ২ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ। মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এটি একজন ব্রিটিশ নাগরিককে সরকারের কোনো বিভাগ থেকে প্রদত্ত সর্বোচ্চ মানহানির ক্ষতিপূরণগুলোর একটি।
শুনানি শেষে তিনি বলেন, “এই রায় আমার জন্য গৌরবের। সত্য যে অটল—তা আবারও প্রমাণিত হলো। ছয় বছরের মানসিক চাপ ও লড়াই শেষে ন্যায়বিচার পেয়েছি। ব্রিটিশ আদালত ও সরকার আমার প্রতি ন্যায় নিশ্চিত করেছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
এই মামলায় তার হয়ে লড়েন বিখ্যাত ল’ফার্ম কার্টার-রাকের আইনজীবী অ্যাডাম টিউডর ও নাতাশা ডোলির নেতৃত্বাধীন দল। দলে ছিলেন জ্যাকব ডিন ও লিলি ওয়াকার-পার।
এই রায়ের মাধ্যমে শুধু একজন ব্যক্তির মানহানি ঘোচেনি, বরং ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থায় নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার একটি মাইলফলক যোগ হয়েছে।