প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের একাংশের কর্মবিরতি, পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৬:২২ অপরাহ্ণ

 

এগারোতম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের একাংশ রোববার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন।

এই কর্মসূচির আওতায় সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ অনুসারীরা রোববার দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি পালন করেন।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা রোববার কর্মবিরতি পালন করছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্কুলটির শিক্ষক ও ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ আহ্বাবায়ক মো. আবুল কাসেম।

তিনি বলেন, “সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু। তবে আমরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার কর্মবিরতি চালিয়ে যাব। আশ্বাস অনুযায়ী আমাদের ১১তম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।”

নোয়াখালী সদর উপজেলার ত্রিপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি চলছে বলে জানিয়েছেন পরিষদের আরেক আহ্বায়ক ও স্কুলটির শিক্ষক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ।

তিনি বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস অনুযায়ী ৩ দফা দাবির মধ্যে ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি ও অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটমেন্ট অনুযায়ী আপাতত ১১তম গ্রেডসহ ৩ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।”

গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা নিরসনের তিন দাবি পূরণে মঙ্গলবার থেকে ‘তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি’ পালন করে রোববার থেকে ক্লাসে ফিরেছেন প্রাথমিকের শিক্ষকদের বারোটি সংগঠনের মোর্চা ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ অনুসারীরা।

এ মোর্চাভুক্ত সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের’ সভাপতি শাহীনুর আল আমিন বলেন, “আমরা তিনদিন লাগাতার কর্মবিরতি পালন শেষে রোববার থেকে ক্লাসে ফিরেছি। সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু, আমরা বাচ্চাদের জিম্মি করে কোন কর্মসূচি নেব না।”

ঢাকার কেরানিগঞ্জের বাঘাসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন না বলেও জানিয়েছেন স্কুলটির সহকারী শিক্ষক শাহীনুর আল আমিন।

তিনি বলেন, “১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ করে আমরা ১১ ডিসেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করবো।”

গত ৮ নভেম্বর শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ ব্যানারে সেদিন বিকালে তারা ‘কলম বিরতি কর্মসূচি’ পালনে মিছিল নিয়ে শাহাবাগের দিকে এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করলে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

গত ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা, যেখানে একাদশ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ এবং উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির জটিলতা নিরসনে সরকারে আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে ওইদিন রাতে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন৷

সূত্র: বিডিনিউজ।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh