আতশবাজি আর উৎসবে বিশ্বজুড়ে নতুন বছরকে বরণ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ

পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে আনন্দ-উল্লাস, আতশবাজি আর উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববাসী। কালপঞ্জির স্বাভাবিক নিয়মেই মহাকালের গর্ভে বিলীন হলো আরও একটি বছর।

প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকার ব্যস্ত শহর- সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন সময়ে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছুঁয়েছে, কিন্তু সবখানেই ছিল উৎসবের রঙ।

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড এবং কিরিবাতি দ্বীপপুঞ্জে প্রথম বেজে ওঠে ইংরেজি নববর্ষের ঘণ্টা।

স্কাই টাওয়ারের ওপর বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানিতে শুরু হয় ২০২৬ সালের যাত্রা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজে আয়োজিত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হয়েছিল লাখো পর্যটক।

প্রায় একই সময়ে নতুন বছরে প্রবেশ করে ভানুয়াতু , সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এবং পাপুয়া নিউ গিনির একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল বোগেনভিলের পাশাপাশি রাশিয়ার কিছু অংশ।

নানা আয়োজনে উৎসবের আমেজ আগেভাগেই শুরু হলেও সময়ের ব্যবধানে ইউরোপের দেশগুলোতে নতুন বছরের উদযাপন শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে।

যুক্তরাজ্য জুড়ে নানা আয়োজনে মানুষ ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে শুরু করেছে।

লন্ডন আই-এর কাছে আতশবাজি প্রদর্শন দেখতে টেমস নদীর ধারে আনুমানিক এক লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল।

নতুন বছর উদযাপনের জন্য লন্ডনের আকাশে ১২ হাজার আতশবাজি আলোকিত হয়েছে, যার কোরিওগ্রাফি করতে কয়েক মাস সময় লেগেছিল।

যুক্তরাজ্যে ২০২৬ সালের সূচনা উপলক্ষে দেশটির ঐতিহ্যবাহী বিগ বেনের আইকনিক শব্দ বাজানো হয়েছে।

টেমস নদীর উপর সম্পূর্ণ আতশবাজি প্রদর্শনীর পাশাপাশি দেশজুড়ে নানা আয়োজনে উৎসবে মেতেছে সাধারণ মানুষ।

স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গের হগম্যানয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতিচ্ছবি এডিনবার্গ দুর্গের উপরে মধ্যরাতের দর্শনীয় আতশবাজির আয়োজন দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

গত বছর খারাপ আবহাওয়ার কারণে এই আয়োজন বাতিল হওয়ার পর এবার আবারও শুরু হলো।

২০২৬ সালের সূচনা উদযাপনে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে লাইভ মিউজিক, ডিজে এবং স্ট্রিট থিয়েটারের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য একটি স্ট্রিট পার্টিতে রূপ নিয়েছে গোটা শহর।

নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেনের বেশিরভাগ অংশ, সুইডেন, ডেনমার্ক, জিব্রাল্টার, ভ্যাটিকান সিটি স্টেট এবং মোনাকো সহ আরও অনেক দেশ ২০২৬ সালের আগমন উদযাপন করছে।

তাদের সাথে যোগ দিয়েছে নাইজেরিয়া, নাইজার, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ক্যামেরুন, মরক্কো এবং অ্যাঙ্গোলাসহ আফ্রিকান অনেক দেশ।

নতুন বছর বরণে বেইজিংয়ে আতশবাজির পাশাপাশি অন্যান্য নানা আয়োজন করা হয়।

২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরের কোপাকাবানা সমুদ্র সৈকতে একটি বিশাল সঙ্গীত এবং আতশবাজি পার্টির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, তাদের এই আয়োজন ২০২৪ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে বড় নববর্ষ উদযাপনের নতুন রেকর্ড তৈরি করছে এবার।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং উত্তর কোরিয়াও স্বাগত জানিয়েছে ইংরেজি নতুন বছরকে।

যদিও, নিরাপত্তার কারণে টোকিওতে শহরের প্রধান ট্রেন স্টেশন শিবুয়া ওয়ার্ডে একটি কাউন্টডাউন ইভেন্ট টানা ষষ্ঠ বছরের মতো বাতিল করা হয়েছে।

১১টি বিশাল সময় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত বৃহৎ দেশ রাশিয়া। রাশিয়ার অর্ধেকেরও বেশি ২০২৫ সালকে বিদায় জানায় বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতেই। অনেক অংশেরই মিল থাকে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গেও।

চীন, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশের সাথে প্রায় একই সময়ে নতুন বছরের উদযাপন শুরু করে মঙ্গোলিয়া, তাইওয়ান, ব্রুনাই, রাশিয়ার ইরকুটস্ক, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ, হংকং, সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও এবং অ্যান্টার্কটিকার কিছু অঞ্চল।

নববর্ষের উপলক্ষ্যে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজন করা হয়েছিল এক অসাধারণ আলোকসজ্জার। ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন রঙের ছবি তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া বর্ণিল আতশবাজির প্রদর্শনী তো ছিলই।

ঘড়ির কাঁটায় ১২টা বাজতেই ২০২৬ সালকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। পরবর্তী আধ ঘন্টার মধ্যে, নেপাল, ভারত এবং শ্রীলঙ্কাও নতুন বছরে প্রবেশ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়ার বেশিরভাগ অংশ, মরিশাস এবং সেশেলস এর বাসিন্দারাও নতুন বছর উপলক্ষ্যে নানা আয়োজন করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন থেকে আতশবাজির আলোক প্রদর্শনী দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh