সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

শীতে কাঁপছে পাবনা জেলা শহরসহ পদ্মা-যমুনা তীরবর্তী অঞ্চল। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পাবনার ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা এবং হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে শীতজনিত রোগীদের ভীঁড় বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২ শতাধিক শিশু ও বয়স্ক মানুষ ভর্তি হয়।
পাবনার ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৯-১০ ডিগ্রীতে ঘোরাফেরা করছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে প্রকৃতি। কখনো হচ্ছে কুয়াশা বৃষ্টি। প্রচণ্ড হিমেল বাতাসের মধ্যে দুপুরে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তা যেন উত্তাপহীন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরাঞ্চলের এবং নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে। তারা ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না।
হাড়কাঁপানো শীতে পদ্মা-যমুনা নদীর চরাঞ্চলের ২ লক্ষাধিক মানুষসহ অন্তত ৫ লক্ষাধিক মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শীতে কাজ করতে না পারায় মানবেতর দিন যাপন করছেন তারা। এছাড়া চরাঞ্চলসহ শীতার্ত মানুষের মধ্যে গরম কাপড়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ গরম কাপড় কিনতে শহরের পুরাতন কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন।
এদিকে শীতজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে শিশু এবং বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২ শতাধিক শিশু ও বয়স্ক মানুষ ভর্তি হয়।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ১১৫ জন শীতজনিত রোগী ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের চাপ বেড়েছে। এছাড়া প্রচণ্ড শীতে চরাঞ্চলের বাসিন্দা ও শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন মহাবিপাকে। তারা ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না। চরাঞ্চলসহ শীতার্ত মানুষের মধ্যে গরম কাপড়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা জানান, পাবনার পদ্মা ও যমুনা নদীর চরাঞ্চলের ২ লাখসহ জেলায় কমপক্ষে ৫ লাখ শীতার্ত মানুষের গরম কাপড় দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো তরফ থেকেই গরম কাপড় বা কম্বল দেওয়া হয়নি।
অন্যান্য বছর শীতের শুরুতেই দানশীল ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ করা হলেও এ বছর এখনো তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।