হলফনামা: চট্টগ্রামে জামায়াতের চার এমবিবিএস প্রার্থী ও তাদের স্ত্রীরারা কোটিপতি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; এর মধ্যে চারজন এমবিবিএস ডিগ্রিধারী, চারজনই কোটিপতি।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় দেখা গেছে, চার চিকিৎসকের সবাই বেসকারি হাসপাতাল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। তাদের স্ত্রীদের সম্পদের পরিমাণও কোটি টাকার বেশি।

ওই চারজন হলেন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে এটিএম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী উপজেলা, চান্দগাঁও ও বায়েজি এবং পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে আবু নাছের, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী ও বাকলিয়া) আসনে একেএম ফজলুল হক এবং চট্টগ্রাম- ১২ (পটিয়া উপজেলা) আসনে প্রার্থী ফরিদুল আলম।

এটিএম রেজাউল করিম

অর্থপেডিস্কের চিকিৎসক রেজাউল করিম বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার স্ত্রী কোহিনুর নাহার চৌধুরীও চিকিৎসক। তাদের দুইজনের সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার উপরে।

হলফনামা অনুযায়ী চিকিৎসা পেশা থেকে তার আয় বছরে ২৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। আর ‘সম্মানী’ পেয়ে থাকেন ১২ লাখ টাকা। শেয়ার, বন্ড আমানত থেকে তার আয় ৫৫ হাজার ৫০৭টাকা।

এদিকে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রেজাউল তার নগদ টাকার হিসাব দিয়েছেন ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং চিকিৎসক স্ত্রী কোহিনুর নাহার চৌধুরীর নগদ টাকার পরিমাণ ১৯ লাখ ২১ হাজার ৯৭৪ টাকা।

তার ব্যাংক হিসাবে জমার পরিমাণ ৪১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৬ টাকা এবং স্ত্রীর আছে ১৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৬ টাকা। নিজের নামে এক কোটি ১৭ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে সাড়ে ৩৯ লাখ টাকা শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্র থাকার তথ্য উল্লেখ করেছেন।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৭৩ লাখ ৪৬ টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং স্ত্রীর নামে ৮৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ৩ দশমিক ৬ কাঠা প্লটের তথ্য দিয়েছেন রেজাউল করিম।

এ ছাড়া তিনি ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকার সম্পত্তি ও ৩৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা বার্ষিক আয় উল্লেখ করে বিপরীতে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৬২৬ টাকা আয়কর দিয়েছেন। তার স্ত্রী ৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকার আয় এবং ১ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকার সম্পদের জন্য ৭ হাজার ৫৫৩ টাকা আয়কর দিয়েছেন।

আবু নাছের

আবু নাছের ন্যাশনাল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক। সার্জারি বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসকের সম্পদের পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণও কোটি টাকা।

বছরে চিকিৎসা পেশা থেকে তার আয় ৩১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং ১৭ লাখ টাকা ‘সম্মানী’ পেয়ে থাকেন।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ৬২৯ টাকা হাতে নগদ এবং ১৯ হাজার টাকা ব্যংক হিসাবে জমার কথা তুলে ধরেছেন।

তার স্ত্রীর হাতে নগদ টাকা ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমা ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। নিজের নামে সাড়ে ৬৯ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার, বণ্ড আছে।

এদিকে স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে ৫ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৭৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকার অকৃষি জমি (প্লট) রয়েছে। নিজের ভবনের দাম উল্লেখ করেছেন ১ কোটি ২২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫০টাকা।

নাছের বর্তমান করবর্ষে আয়কর দিয়েছেন ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৯ টাকা এবং তার স্ত্রী কর দিয়েছেন ৭৭ হাজার ৯৬ টাকা।

তিনি ৪৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৫ টাকার আয় এবং ১ কোটি ৭২ লাখ ৭৮৩ টাকার সম্পদের বিবরণী দাখিল করেছেন আয়কর রিটার্নে।

নাছেরের স্ত্রী আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ তুলে ধরেছেন ১ কোটি ২৯ লাখ ৮৯ হাজার ১৬২ টাকার। আয়ের হিসাব দিয়েছেন ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৪ টাকা।

একেএম ফজলুল হক

ফজলুল হক বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তার স্ত্রী আমেনা শাহীন শিক্ষকতার পাশাপাশি মেট্রোপলিটন হাসপাতালেরও পরিচালক। তারও সম্পদের পরিমাণও কোটির ঘরে।

হলফনামায় নিজের প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন ফজলুল হক। তার স্ত্রী আমেনা শাহীনের স্থাবর অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি।

ফজলুল হকের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকলেও গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি তা ত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় তুলে ধরেছেন।

এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হলেও আয়ের উৎস হিসেবে চিকিৎসা পেশার কথা বলেননি। নিজেকে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়েছেন।

হলফনামায় তার ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ও চাকরি থেকে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৮১২ টাকা ও স্ত্রীর নগদ টাকার পরিমাণ ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৩৫ টাকা। নিজের ব্যাংক জমা ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩৩ টাকা ও স্ত্রীর ব্যাংক জমার পরিমাণ ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৪ টাকা।

বণ্ড, শেয়ার ও ঋণপত্র আছে ৪ কোটি ৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৭০ টাকা ও স্ত্রীর আছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমির মূল্য ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৯ টাকা ও স্ত্রীর ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। নিজের নামে একটি ও স্ত্রীর নামে তিনটি ফ্ল্যাটের কথা তুলে ধরেছেন।

বর্তমান করবর্ষে (২০২৫-২৬) তিনি তার বার্ষিক ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৪৬ টাকা আয় ও ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ৬১ হাজার।

তার স্ত্রী আমেনার ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৪ টাকা বার্ষিক আয় ও ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০২ টাকার সম্পদের বিপরীতে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮৪ টাকা আয়কর দিয়েছেন।

ফরিদুল আলম

ফরিদুল আলম শেভরন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী সুলতানা বাদশাজাদীর পেশা ব্যবসায়ী। সুলতানা মেট্রোপলিটন হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ফরিদুল আলমের চিকিৎসা পেশা থেকে বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং শেয়ার বন্ড, ঋণপত্র থেকে আয় ১০ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৬ টাকা। ।

তার ব্যাংকে কোনো টাকা না থাকলেও এফডিআর আছে ৪০ লাখ টাকার। নগদ টাকার পরিমাণ ৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা ও ব্যবসায়ী স্ত্রীর নগদ টাকার পরিমাণ ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৩০৫ টাকা। স্ত্রীর ব্যাংক জমার পরিমাণ ৫ হাজার ৭৯৪ হলেও ৫০ লাখ টাকার এফডিআর উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরিদুল আলমের বণ্ড, শেয়ার ও ঋণপত্র আছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৩১ টাকা। স্ত্রীর ১৫ লাখ টাকা ব্যবসায়িক মূলধন, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে শেয়ার ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও অন্য একটি প্রতিষ্টানে ৩ লাখ টাকার পুঁজি এবং ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭৮ টাকার বীমা আছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের ৫০ শতকের অকৃষি জমির ৬ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার ১৩২ টাকা এবং পটিয়া উপজেলায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যে একটি তিন তলা ভবনের কথা বলা হয়েছে হলফনামায়।

ফরিদুল আলম ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৫ টাকার সম্পদ ও ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৬ টাকার আয়ের বিপরীতে ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৬ টাকা কর দিয়েছেন।

তার স্ত্রী সুলতানা বাদশাজাদী ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭১ টাকা বার্ষিক আয় ও ১ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার ৯৭৭ টাকার সম্পদের বিপরীতে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৬৭ টাকা আয়কর দিয়েছেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh