দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীর বিধান জানতে চাইল ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে সংবিধান কী বলে—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লেখা এক চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে লন্ডনভিত্তিক এই সামাজিক সংগঠন। চিঠিতে বলা হয়, “দ্বৈত নাগরিকদের, বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতার বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা প্রার্থনা করছে ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম।”

চিঠিতে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ জানুয়ারি ২০২৬। এতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মনোয়ার হোসাইনের সই রয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। এটি প্রণীত হয় মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে।”

সংগঠনটি ব্যাখ্যা করে বলেছে, “ওই সময় সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদটি যুক্ত করা হয় একটি নির্দিষ্ট উদ্বেগ থেকে। এর লক্ষ্য ছিল, যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে, তারা যেন সংসদের সদস্য হতে না পারে। সে সময় বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের ধারণা কার্যত ছিল না।”

চিঠিতে আরও বলা হয়, “১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে সংবিধান অনুমোদনের অল্প সময়ের মধ্যেই ‘বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ, ১৯৭২’ জারি করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সংবিধান অনুমোদনের পরপরই নাগরিকত্ব নীতিতে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।”

সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, “পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (দ্বিতীয়) আদেশ, ১৯৭৮’ প্রবর্তিত হয়। সেখানে বলা হয়, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। পাশাপাশি সরকারকে বৈধ দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়।”

চিঠিতে বলা হয়, “এই ক্ষমতাবলে জারি হওয়া এসআরওর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা আইনিভাবে স্বীকৃত বৈধ দ্বৈত নাগরিক এবং তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বহাল থাকে।”

সংগঠনটি আরও বলেছে, “২০১০ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৬৬(২ক) ধারা সংযোজন করা হয়। সেখানে নিশ্চিত করা হয় যে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ কেবল সেই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাস্তবে পরিত্যাগ করা হয়েছে। যেখানে নাগরিকত্ব ত্যাগ করা হয়নি, সেখানে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।”

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “কখনো কখনো যুক্তি দেওয়া হয় যে, সংসদ সদস্যরা আইনপ্রণেতা হওয়ায় দ্বৈত নাগরিকদের সংসদ সদস্য হওয়া উচিত নয়। তবে এই যুক্তি সাংবিধানিক বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।”

সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকদের বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, “যদি দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতো, তাহলে সংবিধানে বিচার বিভাগীয় পদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো।”

চিঠিতে আরও বলা হয়, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি কিংবা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য বিসর্জন দিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর হননি। সুতরাং তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অস্বীকার করা সাংবিধানিক অভিপ্রায়, প্রচলিত আইন ও গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”

চিঠির শেষাংশে সংগঠনটি জানায়, “অতএব আমরা বিনীতভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হোক, যাতে নিশ্চিত হয়—বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বজায় রাখা ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য।”

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh