সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত ‘সিল’ করে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কিছু কর্মকাণ্ড ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ‘কেউ যদি কোন অস্ত্র সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকিয়ে ফেলে, সহজে এটাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। একটা বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, একটা গোষ্ঠী যদি অস্ত্র ব্যবহার করে নাশকতা করতে চায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবহার করলে তাকে ধরা খুব কঠিন।’
তিনি বলেন, কোনো রোহিঙ্গার কাছে কোনো অস্ত্র থাকলে সেটার ‘দাম বেড়ে যায়’ এবং সেটা সহজে ব্যবহার করা যায়। রোহিঙ্গাদের চলাচলে অবশ্যই আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বর্ডারকে সিল করে দিতে হবে।
আঞ্চলিক এবং ভৌগলিক কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষত্ব তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, অর্থনৈতিক কার্যক্রমও এটার সাথে রিলেটেড। এটা দিয়ে মূল বাণিজ্য সম্পাদন হয়ে থাকে। সার্বিকভাবে চট্টগ্রামের বিষয়টা লোকাল না, এটা ন্যাশনাল।
তিনি বলেন, এ এলাকাকে ব্যবহার করে অস্ত্র ও মাদকের পরিবহন হয়ে থাকে। যারা কিডন্যাপিংয়ের সাথে জড়িত আছে, তারাও এ এলাকাকে ব্যবহার করে থাকে। চট্টগ্রাম এলাকার ভূমিরুপ একটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এখানে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন কার্যক্রম ঘটিয়ে খুব সহজেই লুকিয়ে যেতে এবং মানুষের মাঝে মিশে যেতে পারে।
নির্বাচনে ‘স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তা’র সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাজ করার নির্দেশনা দেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ভুল করলে শঙ্কিত হবেন না। যে কাজ করে তারই ভুল হয়। যে কাজ করে না তার ভুল হয় না। ভুল এক জিনিস, অপরাধ অন্য জিনিস। সচেতনভাবে যে ভুলটা করে, সেটা অপরাধ। কাজ করতে গেলে টুকটাক কিছু ভুল হবে হোক।
প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “তারপরও যদি কোনো ব্যতয় হয়, কোনো সমস্যা নাই। কাজ করতে গেলে ব্যতয় হবে। ব্যতয় যেটা হয়েছে সেটা সরাসরি বলে দেবেন–‘এটা আমাদের ভুল হয়েছে।’ ঠিক করে নেব।”
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কোনো পক্ষ অবলম্বন না করার নির্দেশনা দিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের থেকে বা সরকার কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বা ইনিয়েবিনিয়ে কোনো ইন্স্ট্রাকশন দেবে না। এ ধরনের কোনো ইন্স্ট্রাকশন যদি পান, ধরে নেবেন সেটা ভুয়া। সে ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন। প্লিজ এনজয় ইওর ফ্রিডম। আপনারা সৎ, একনিষ্টভাবে আইন অনুযায়ী কাজ করবেন, কোনো পক্ষের দিকে সামান্যতম হেলবেন না।