হাই কোর্ট মাজারের ওরশে পুলিশের বাধার অভিযোগ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর হাই কোর্ট সংলগ্ন শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতীর মাজারে বার্ষিক ওরশের কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভক্তরা।

পুলিশ বলছে, দিনের বেলা ওরশ শেষ হয়ে গেছে। এরপরেও কিছু ভক্ত ও পাগল সেখানে রয়ে গেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে যাদেরকে হাই কোর্ট প্রাঙ্গণের ভেতরে অবস্থিত মাজারটিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভক্তরা বলছেন, হাই কোর্ট মাজার বলে পরিচিত রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওই মাজারে শুক্রবার থেকে তিন দিনের বার্ষিক ওরশ শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্ত, পাগল ও অনুসারীরা সন্ধ্যায় মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হন।

কিন্তু সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের মূল স্থাপনার ভেতর থেকে বের করে দেয় বলে তাদের অভিযোগ। তারা বলছেন, সন্ধ্যায় ভক্তরা কেউ কেউ রীতি অনুযায়ী মোমবাতি জ্বালিয়ে চলে যেতে চাইলে সেটাও করতে দেওয়া হয়নি।

মহাথেরো মোহাম্মদ নামে এক ভক্ত মাজার প্রাঙ্গণ থেকে সন্ধ্যার পর কয়েকটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন। ভিডিওতে বেশ কয়েকজন ভক্ত ও অনুসারীকে মাজারের ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ার অনুযোগ করতে দেখা যায়। অনেকেই সরকারের প্রতি উষ্মা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলছেন, ওখানে বাৎসরিক একটা প্রোগ্রাম ছিল। দুপুরে তারা তবারক বিতরণ করেছে। সন্ধ্যার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে দেওয়ার কথা থাকলেও তারা যেতে চাচ্ছে না।

এই মাজারে ওরশে ভক্ত সংগীত সহ নানা ধরনের কর্মসূচি থাকে। ভক্তরা বলছেন বিগত বছরগুলোতে তিন দিনব্যাপী দিনরাত সেখানে ওরশের নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে।

জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ বলেন, এখানে ভক্ত, অনুসারী ও পাগলরাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে গাঁজাসেবীরাও সমবেত হয়। হাই কোর্ট থেকে বিচারপতি মহোদয়রা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সন্ধ্যার পর সেখানে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত কাউকে ঢুকতে দেওয়া না হয়, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সেনসিটিভ বিষয়। এখন সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সেই নির্দেশনা অনুসরণ করছে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ওখানে কোনো সমস্যা ছাড়াই ওরশ শেষ হয়ে গেছে। এরপরেও কিছু পাগল ও ভিক্ষুক সেখানে রয়ে গেছে।

সেখানে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমাকে ফোন করে জানাল খাবার দেওয়া হয়নি বলে কিছু পাগল ও ভিক্ষুক চিল্লাচিল্লি করছে। আমরা ব্যাপারটা দেখতেছি।

ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গবেষক ও সাংবাদিক তরুণ সরকার বলছেন, হাই কোর্টের মাজারে শাহ্ খাজা শরফুদ্দীন চিশতী সমাহিত আছেন বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন। শতাধিক বছরের বেশি সময় ধরে ভক্তরা এই মাজার আগলে রেখেছেন বলে ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।

বলা হয়ে থাকে, খাজা শরফুদ্দীন মোঘল সম্রাট আকবরের আমলে ঢাকায় এসেছিলেন ইসলাম প্রচারের জন্য। তবে তার জীবন সম্পর্কে তেমন বিস্তারিত ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না।

হাই কোর্টের এই মাজার প্রাঙ্গণে মোঘল আমলের চৌচালা একটি স্থাপত্য নিদর্শন এখনও টিকে আছে।

প্রচলিত আছে, মোঘল সুবেদার ইসলাম খাঁ ১৬১৩ সালে ঢাকা থেকে ২৫ মাইল উত্তরে ভাওয়ালে রহস্যজনকভাবে মৃতুবরণ করলে প্রথমে তাকে এখানে সমাহিত করা হয়েছিল, হাই কোর্টের এই এলাকায়।

ঢাকায় আমল শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ এলাকাটি অভিজাতদের আবাসস্থলে পরিণত হয় এবং বাগে বাদশাহী নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। পরে ইসলাম খাঁর দেহাবশেষ ফতেহপুর সিক্রিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার দাদা শেখ সেলিম চিশতির পাশে সমাহিত করা হয়।

সূত্র: বিডি নিউজ

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh