সব দলের অংশগ্রহণ না থাকলে নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না: চার ব্রিটিশ এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের চার ব্রিটিশ এমপি। তারা বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণ না থাকলে কোনো নির্বাচনকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলা যায় না।

হাউস অব কমন্সের এই চার এমপি হলেন- বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জ্যাস আথওয়াল ও ক্রিস ল। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, “নৈতিক বিবেচনাবোধ সম্পন্ন প্রত্যেক মানুষই আশা করেন, এই নির্বাচন একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তবে তখনই সেটা সম্ভব হবে, যখন নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ।”

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গেল বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়।

এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে চার ব্রিটিশ এমপি বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন যে, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে বাংলাদেশের লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং তারা ভোট দিতেই যাবেন না।”

বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, “সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। বাংলাদেশের ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হয়নি, যারা নিজেরাই অনির্বাচিত।”

বাংলাদেশের রাজনীতিকে দীর্ঘদিন ধরে ‘চরমভাবে বিভক্ত’ উল্লেখ করে চার এমপি বলেন, “এই পরিস্থিতির দায় বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলেরই কিছু না কিছু রয়েছে। তবে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আবার গতিশীল করতে ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারকে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে।”

তারা আরও বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিরোধী দলগুলো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবে।”

যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচার ব্যবস্থার কাঠামোগত ব্যর্থতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, “আমরা ব্রিটিশ সরকারসহ জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই—ড. ইউনূস যেন গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি তার অঙ্গীকার বজায় রাখেন, বাংলাদেশের সব নাগরিকের নাগরিক অধিকার রক্ষা করেন এবং একটি মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করেন।”

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh