সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের মাঝে বরাদ্দ দিতে লটারি পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামীতে আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ার লটারির মাধ্যমে বণ্টন করা হবে।
আইপিও নীতিমালা সংস্কারের পর গত ৩০ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত আইনের বিষয়ে জানাতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দেশের স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাথমিক অনুমোদন দেবে এবং স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশের ভিত্তিতে বিএসইসি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
আগ্রাহী কোম্পানি যে কোনো একটি বা দুটো স্টক এক্সেচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে আবেদন করতে পারবে। মূল বাজারে তালিকাভুক্ত হতে ৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে।
আইপিও পরবর্তী মোট শেয়ারের কমপক্ষে ১০ শতাংশ পুঁজিবাজারে ছাড়তে হবে। আইপিও শেষ হলে কোম্পানির মূলধন হতে হবে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা।
এ নিয়মে কোনো কোম্পানি বাজারে আসতে চাইলে তাকে ন্যূনতম ২০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়তে হবে। অবশ্য মৌলভিত্তির ও বহুজাতিক কোম্পানি বেলায় এই শর্ত কিছুটা শিথিল করতে পারবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আইপিও পরবর্তী কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকার বেশি হবে না। আইপিও প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ৫ বছরের মধ্যে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার শেষ করতে হবে।
আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার লটারি পদ্ধতি ২০২৪ সালে বাতিল করা হয়। এরপর থেকে আবেদনকারীদের জন্য আনুপাতিক হারে সকলের জন্য শেয়ার বরাদ্দ করার নিয়ম চালু করে বিএসইসি।
এই নিয়মে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও জমা অর্থের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে শেয়ার বরাদ্দ করা হত। আইপিওতে অংশ নিতে বিনিয়োগকারীদের মূল বাজারে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আর্থিক খাতের সংস্কারে একাধিক টাক্সফোর্স গঠন করা হয়। এর অংশ হিসেবে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গঠিত টাক্সফোর্সগুলোর সুপারিশের আলোকে কাঠামোগত সংস্কার চলছে।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টাক্সফোর্স আইনটি করার সময়ে সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আলোচনা করেছে। সবাই যে সকল বিষয়ে একমত হয়েছে, অর্থাৎ কমন সুপারিশ এসেছে,সেগুলো ধরেই সংশোধনে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এজন্য আইনগুলো বাস্তবায়ন আরো সহজ হবে। এটা মার্কেট ড্রাইভেন হবে। আগের অনেক বিষয়েই মার্কেট ড্রাইভেন ছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শেয়ারবাজারে আইপিওতে নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জকে আগের চেয়ে বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সংশোধিত আইনে। আইপিওতে আসতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর প্রসপেক্টাস বা বিবরণীর ওপর বস্তুনিষ্ঠ যে কোনো মতামত দিতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ।
আবুল কালাম বলেন, নতুন নিয়মে কোম্পানির কারখানা ও কার্যালয় পরিদর্শনেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জকে।
স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে মতামত দিলে ওই কোম্পানি সেই মতামতের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে আপিলের সুযোগ পাবেন।
নতুন আইন অনুযায়ী, আইপিও থেকে তোলা অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ বা বিনিয়োগে ব্যয় করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।
এই নিয়ম প্রকল্প, যন্ত্রপাতি কেনা বা ব্যবসার সম্প্রসারণের জন্য নেওয়া ঋণের বেলায় প্রযোজ্য হবে এবং নিরীক্ষকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে। খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আইপিওর টাকা ব্যবহার করা যাবে না।
ফিক্সড-প্রাইস পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামসহ আইপিও আনা যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে কোম্পানিকে টানা দুই বছর নিট মুনাফা ও পজিটিভ ক্যাশ ফ্লোসহ অন্তত তিন বছরের বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকতে হবে।
অন্যদের মধ্যে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম হাছান মাহমুদ, অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।