সব
স্পোর্টস ডেস্ক,
বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সমালোচিত বিসিবি পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানিয়েছে বিসিবি।
নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে সব ধরণের ক্রিকেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। নিজেদের জায়গা থেকে সরেনি তারা।
আজ দুপুর ১টায় মিরপুরে বিপিএলের ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ঠিক একই সময়ে রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। মাঠের বাইরে, ভিন্ন স্থানে এবং ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়েই ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন ডাকার অর্থ, খেলোয়াড়রা মাঠে নামছেন না, অন্তত নির্ধারিত সময়ে নয়।
শুরুটা হয়েছিল তামিম ইকবালের বক্তব্যের পর। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম. নাজমুল ইসলাম তামিমকে ভারতীয় দালাল বলেছিলেন। সেবারও ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে, লাগাম টানেননি নাজমুল ইসলাম। গতকাল ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
গতকাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললে কতটা ক্ষতি হবে সেই প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিসিবির এই পরিচালক বলেন, ‘বিসিবির হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে, কারণ তারা খেললে ম্যাচ ফি পায়। ম্যাচ সেরা হলেও পায়, পারফরম্যান্স অনুযায়ী পায়। এটা শুধুই ক্রিকেটারের পাওয়া। বোর্ডের লাভ-ক্ষতি নেই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য।’
আশানুরূপ পারফর্ম না করলে ক্রিকেটারদের বেতন কাটা হয় না, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কোন যুক্তিতে? সাংবাদিকদের কাছে এই পাল্টা প্রশ্ন করে নাজমুল যোগ করেন, ‘কেন? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, আমরা যে ওদের পেছনে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ঐ টাকা ফেরত চাচ্ছি না কি? চাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’
নাজমুলের এমন কথার পর বিবৃতি কোয়াব। রাতে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘উনি যেভাবে আমাদের সব ক্রিকেটারদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তো উনি যদি আগামীকাল ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করব।’
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, বোর্ডের একজন সদস্যের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য অনুচিত, আপত্তিকর এবং খেলোয়াড়দের জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য বোর্ড আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। বিসিবি মনে করে, এ সব মন্তব্য বোর্ডের মূলনীতি ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিসিবি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেন কিংবা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম ও ভাবমূর্তির ক্ষতি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বোর্ড বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পরিচালকের পদে থাকলেও কাউকেই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।
বোর্ড তার বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ক্রিকেটাররাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু। অতীতে এবং বর্তমানে যারা দেশের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি বিসিবির পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন রয়েছে। খেলোয়াড়দের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় বিসিবি সবসময় অটল থাকবে এবং ক্রিকেটের প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা হবে।