মনপুরায় তরুণীকে ‘দলবদ্ধ’ ধর্ষণের অভিযোগ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

বিয়ের জন্য প্রেমিকের সঙ্গে ভোলার মনপুরা উপজেলায় আসা এক তরুণীকে (১৮) ‘দলবদ্ধ’ ধর্ষণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার একটি বেড়িবাঁধে প্রেমিককে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই তরুণীর বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। তার প্রেমিকের বাড়ি মনপুরা উপজেলার একটি গ্রামে। তারা দুজনই চট্টগ্রামে একটি কারখানায় কাজ করেন। পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য প্রেমিকের সঙ্গে ওই তরুণী গত বৃহস্পতিবার লঞ্চযোগে মনপুরায় আসেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই তরুণীকে নিজের দাদির বাড়িতে রাখেন তার প্রেমিক। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অজুহাত তুলে তাদের জিম্মি করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে পুলিশে সোপর্দ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় চক্রটি। স্থানীয় লোকজনের বাধা সত্ত্বেও জোর করে রাতের লঞ্চে হাতিয়া হয়ে চট্টগ্রামে পাঠানোর কথা বলে বাড়িতে থেকে বের করে আনা হয়।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘লঞ্চে তুলে দেওয়ার কথা বলে তারা আমাদের তালতলী বেড়িবাঁধে নিয়ে আসে। এদিক–সেদিক টর্চলাইটের আলো ফেলে নৌবাহিনী আসছে ভয় দেখিয়ে বাঁধের নিচে নামতে বলে। আমাকে বাঁধের নিচে নামানোর পর আমার প্রেমিককে বেধড়ক পেটানো শুরু করে। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এরপর আমার মুখ চেপে ধরে দুই-তিনজন আমাকে ধর্ষণ করে। আমি তাদের নাম জানি না। তবে দেখলে চিনতে পারব।’

ওই তরুণীর প্রেমিক বলেন, বৃহস্পতিবার তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় গিয়াসউদ্দিন, আলমগীর মাঝি, ইদ্রিস মাঝি, আল-আমিন ও মাকসুদ। পরে ইদ্রিস, আল-আমিন ও মাকসুদ তাদের লঞ্চঘাটে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে আসেন। কিন্তু লঞ্চঘাটে না নিয়ে তালতলী এলাকার নির্জন বেড়িবাঁধে নিয়ে তাকে প্রথমে বেধড়ক মারধর করেন। পরে তাকে আটকে রেখে তার প্রেমিকাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করেছে। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে।

সূত্র: প্রথম আলো।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh