সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

গ্রাম–শহরনির্বিশেষে বিদ্যুৎ ছাড়া চলতে পারেন না কেউ। বিদ্যুৎ এখন আমাদের জীবনে অপরিহার্য। কিন্তু আপনি যদি এ বছরের আয়কর রিটার্ন জমা না দেন, তাহলে কর কর্মকর্তারা আপনার বাসাবাড়ির বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিতে পারেন। সেই ক্ষমতা কর কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।
শুধু বিদ্যুৎ–সংযোগ নয়; গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন কর কর্মকর্তারা। আয়কর আইনে সেই ক্ষমতা কর কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের যে আয়কর নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তাতে রিটার্ন জমা না দিলে পাঁচ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।
এবার দেখা যাক, আয়কর রিটার্ন না দিলে আয়কর আইনে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারবেন কর কর্মকর্তারা।
১. জরিমানা আরোপ
আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে জরিমানা আরোপ করা যাবে। আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা হয়, যা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হয়।
এখানে দুটি শর্ত আছে। এক. আগে কখনোই কর নির্ধারণ করা হয়নি, এমন করদাতার জন্য পাঁচ হাজার টাকা। দুই. আগে কর নির্ধারণ করা হয়েছে, এমন করদাতার ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকার মধ্যে যা অধিক হবে, তা–ই জরিমানা হিসেবে ধার্য করা হয়।
২. কর অব্যাহতি কমবে
আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন করা হবে। যেমন কোনো করদাতা যদি নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দেন, তবে তাঁর কর আরোপের ক্ষেত্রে যদি কর অব্যাহতি পান, তাহলে যথাসময়ে রিটার্ন না দিলে সেই কর অব্যাহতি না–ও মিলতে পারে। যেমন বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, কর অবকাশ ইত্যাদি।
৩. অতিরিক্ত কর আরোপ
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। এতে করদাতার করের ভার বাড়বে।
৪. গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে। বিদ্যুৎ–সংযোগ নয়; গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন কর কর্মকর্তারা।
৫. বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা
সরকারি–বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বেতন–ভাতার একটি নির্ধারিত সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কোনো করদাতা যদি রিটার্ন জমা না দেন, কিন্তু তাঁর করযোগ্য আয় আছে কিংবা রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা আছে, তাহলে কর কর্মকর্তারা চাইলে ওই ব্যক্তির বাসাবাড়ি কিংবা প্রতিষ্ঠানের গ্যাস–বিদ্যুৎসহ পরিষেবার লাইন কেটে দিতে পারেন।
রিটার্ন জমা কাদের জন্য
দুই শ্রেণির কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীদের (টিআইএন) আয়কর রিটার্ন দিতে হয়। তাঁরা হলেন, যাঁদের করযোগ্য আয় বছরে সাড়ে তিন লাখ টাকা পেরিয়ে গেছে। অপর শ্রেণি হলো যাঁদের আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখানে বলা প্রয়োজন, ৩৯ ধরনের সেবা নিতে আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র দেখাতে হয়।
রিটার্ন কোথায় জমা দিতে হয়
১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিতে পারেন। এ বছর দুই দফা সময় বাড়ানোর পর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
সেখানে সারা বছরের আয়–ব্যয়ের তথ্য দিতে হয়। এ বছর থেকে সব করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে। www.etaxnbr.gov.bd–এ ঠিকানায় অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে বিশেষ পাঁচ শ্রেণির করদাতাদের অনলাইনে রিটার্ন জমা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ১ কোটি ১৫ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। এ পর্যন্ত ৩১ লাখ করদাতা তাঁদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন।