সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

বাংলাদেশে চলমান খুন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অগ্নিসংযোগ, মব সন্ত্রাস, বিচারহীনতা এবং মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ১৯৭২ সালের সংবিধান অক্ষুণ্ন রেখে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক ক্যাম্পেইন গ্রুপ হৃদয়ে ৭১ (71@HEART)।
১৭ ও ১৮ জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলনের আলোকে আয়োজকরা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা খর্ব করে কোনো শাসনব্যবস্থা নৈতিক, রাজনৈতিক কিংবা সাংবিধানিকভাবে বৈধ হতে পারে না।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশে ভয়ভীতি ও সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে কার্যত জিম্মি করা হয়েছে। বিচারহীনতা রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে; একই সঙ্গে বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও জঙ্গিবাদকে কার্যত প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও ভিন্নমতাবলম্বীরা ক্রমাগত হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন বলেও উদ্বেগ জানানো হয়।
সম্মেলনের প্রথম দিন (১৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার গবেষক ও প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে গণতন্ত্র ধ্বংস ও মানবাধিকারের অবনতির একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। আলোচনায় অংশ নেন ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের মার্কেটিং ডাইরেক্টর ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ, ফ্রান্সের কোট দ্য জুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং গবেষক ড. এস এম মাসুম বিল্লাহ, জার্মানির হীলব্রুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. জোবাইদা নাসরীন, ব্রাসেলসভিত্তিক South Asian Democratic Forum (SADF)-এর নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক এমইপি পাওলো কাসাকা, পোল্যান্ডের Never Again Association ও Minorities for Peace-এর প্রতিনিধি নাটালিয়া সিনেইভা-পাকাওয়াস্কি এবং কানাডার Global Centre for Democratic Governance (GCDG)-এর প্রেসিডেন্ট সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এম হাবিবে মিল্লাত।
প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হৃদয়ে ৭১-এর আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন (১৮ জানুয়ারি) সমাপনী পর্বে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে এখন কেবল গণতন্ত্রই নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিরুদ্ধেও পরিকল্পিতভাবে বিকৃতি ও অপপ্রচার চলছে। স্বাধীনতাবিরোধী ও মৌলবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকলেও তা প্রতিহত করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়।
সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে একপাক্ষিক নির্বাচন ও তথাকথিত গণভোট আয়োজনের অপচেষ্টা চলছে। বক্তারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচন বা গণভোট গণরায় হতে পারে না; এগুলো ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার কৌশল মাত্র। তাই অংশগ্রহণবিহীন নির্বাচন ও গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলনের আলোকে আয়োজকরা জরুরি ভিত্তিতে—
জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা
আইনের শাসন ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত
মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ
মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত
২০২৪-পরবর্তী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার
মবতন্ত্র, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন
১৯৭২ সালের সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষা
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণসহ স্বচ্ছ, ন্যায্য ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন
—এই দাবিগুলো তুলে ধরেন।
সম্মেলনের সহযোগী উদ্যোক্তা ছিল কানাডার Global Centre for Democratic Governance (GCDG), ব্রাসেলসভিত্তিক South Asian Democratic Forum (SADF) এবং যুক্তরাষ্ট্রের Global Coalition for Secular and Democratic Bangladesh (GCSDB)।
এছাড়া উদ্যোগটিকে সমর্থন করেছে একাত্তরের প্রহরী (যুক্তরাষ্ট্র), যুক্তরাজ্যস্থ সেকুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও জয়বাংলা ফাউন্ডেশন।
দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ক্যাম্পেইনের সিনিয়র সদস্য লেখক-গবেষক অ্যাডভোকেট শাহ ফারুক আহমেদ। সম্মেলন পরিচালনা করেন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য আলিমুজ্জামান ও মতিউর রহমান মতিন।